ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠত্বের স্থান অর্জন করেছে কিশোরগঞ্জ সদর

ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কর্মী শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত করে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ প্রদান করা হয়েছে। এতে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ কিশোরগঞ্জ।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আয়োজনে মঙ্গলবার (৬ আগষ্ট) সকাল ৯ টায় রাজধানীর আজিমপুরে ঢাকা বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনার সম্মেলন কক্ষে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ঢাকা বিভাগের মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

আয়োজিত পুরস্কার প্রদান ও বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস অ্যাওয়ার্ড-২০১৮-২০১৯ শীর্ষক আলোচনা সভায় পরিবার পপরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক আ খ ম মহিউল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেব ও পরিবার পরিকল্পনা ঢাকা বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) আব্দুল্লাহ সাজ্জাদ এর সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খানের হাতে এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দেয়া হয়।

মামুন আল মাসুদ খান ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আসার পর থেকে তার দক্ষ নেতৃত্ব, পরামর্শ ও সহযোগীতায় পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খেলাধুলা ও জনসেবা মুলক কার্যক্রমে উত্তরোত্তর উন্নতি ও কৃতিত্ব দেখিয়ে আসছে উপজেলাটি। সেই সাথে কিশোরগঞ্জ জেলাতেও বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে শ্রেষ্ট উপজেলা নির্বাচিত হয়।

তাছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দিবসে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতেও শ্রেষ্ঠ উপজেলার গৌরব অর্জন করে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা। চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান জানান-কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, ঢাকা বিভাগে ১ম স্থান অর্জনের পিছনে যেসব উদ্যোগ বিবেচিত :-

# উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UFPO) কর্তৃক মাঠ পর্যায়ের সকল স্টাফদের নিয়মিত “মা্ঠ-পরিদর্শন”- এর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে কর্মীদের উদ্দীপ্ত করা।

# মাঠ-কর্মীদের কাজের স্বীকৃতি সরূপ বিশেষ বিশেষ সেবা সপ্তাহ ও বাৎসরিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে খুব আকর্ষনীয় পুরস্কার প্রদান। যাতে সবার মধ্যে এক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়।

# উপজেলা পরিষদ, সকল ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানী গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, মহিলা সংগঠন,বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সরকারী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয় করে পঃপঃ কার্যক্রমের ব্যাপক প্রচার,প্রসার ও বাস্তবায়ন করা হয়। এখানে উল্লেক্ষ্য যেঃ আমরা উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ৮৮ টি স্যাটেলাইট ক্লিনিকের জন্য আসবাবপত্র প্রদান করি।

# স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন দপ্তর ও NGO দেরকে ব্যপকভাবে সম্পৃক্ত করে মাঠ-পর্যায়ে বিশেষ বিশেষ মডেল ক্যাম্প আয়জোন করা হয় যা মিডিয়াতে খুব সাড়া ফেলে।

# জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকা, টিভি ও অন্যান্য অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ কে প্রতিটি কর্মসুচীতে সম্পৃক্তকরে পঃপঃ কার্যক্রমকে ব্যাপকহারে দৃশ্যমান করা হয়।

# মাঠে নিয়মিত কার্যকর স্যাটেলাইট ক্লিনিক, উঠান বৈঠক, স্কুল স্বাস্থ্য শিক্ষা ও কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, বাল্য বিবাহ রোধে এবং জনসংখ্যা বিষয়ক ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে উপজেলার প্রায় সবগুলো স্কুল-মাদ্রাসায় ব্যাতিক্রমী প্রোগ্রামের আয়োজন হয় যা এখনও চলমান।

#সর্বপরি, আমার উপজেলা পরিষদের এই বিভাগের একজন তরুন, চৌকষ, অত্যন্ত ডাইনামিক্‌, কর্মবান্ধব বিসিএস উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিভিন্ন ইনোভেটিভ উদ্দোগ ও তার সুন্দর “টীম স্পিরিট” এর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনায় আমরা জেলায় ৪ বার ফার্স্ট হওয়া, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় উন্নয়ন মেলায় পরপর ২ বার জেলায় প্লেস করতে সক্ষম হয়েছি। যা গত ২২ মে সাবেক ডিজি স্যার আমার উপজেলায় দেখে এসে ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। এর ফলেই এ বিভাগের কার্যক্রম আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।


আরও পড়ুন