গোর-এ শহীদ ময়দান এখন বিনোদন কেন্দ্র

দিনাজপুরে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিত্ত বিনোদনের জায়গা না থাকায় দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ময়দানটিই অনেকের কাছে বিনোদনের জায়গা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে এই গোর-এ শহীদ ময়দানে দেখা যায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়।

বিশেষ করে ঈদের পরদিন থেকে সপ্তাহব্যাপী মানুষের ভিড় লেগে থাকে এই গোর-এ শহীদ ময়দানে। স্থানীয়দের সাথে যোগ হয় ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসা ঢাকাস্থবাসী। ফলে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে প্রায় রাত ৮টা পর্যন্ত শত সহস্র মানুষের ভিড় দেখা যায় এই মাঠে।

ঈদে বেড়াতে আসা এসব বিনোদনপ্রেমীদের আনন্দ দিতে নতুন মাত্রায় যোগ হয়েছে বিভিন্ন ধরনের খেলনার সরঞ্জাম। শিশু কিশোরদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠে বসেছে বিভিন্ন প্রকার দোকানপাট।

উপজেলাভিত্তিক কয়েকটি স্থানে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠলেও দিনাজপুর জেলা সদরে নেই তেমন কোনো চিত্ত বিনোদনের জায়গা।

শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে ব্যক্তি মালিকানাধীন সিটিপার্ক আর ৮কিলোমিটার দূরে রামসাগর জাতীয় উদ্যানই মানুষের চিত্তবিনোদনের ভরসার স্থল। ফলে জেলা সদরের মানুষ বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছে গোর-এ-শহীদ ময়দানের মতো খোলা মাঠটিকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২২ একর জায়গাজুড়ে বিশালাকার এই গোর-এ শহীদ ময়দানে মাঠের চারদিকে মানুষের ভিড়। কেউ এসেছেন পরিবার পরিজন নিয়ে, কেউ বন্ধুরা মিলে আবার কেউ এসেছেন শিশুদের নিয়ে। মাঠের একপ্রান্তে শিশুদের খেলনার জন্য নাগরদোলা, ঘূর্ণী চরকি, নৌকা দোলনা, ট্রেন, শিশুদের জাম্পিং খেলনাসহ প্রায় ১৪টি রাইডস বসানো হয়েছে।

কোরবানি ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে দিনাজপুরে ঈদ করতে এসেছেন মো. আলতাফ হোসেন (৪০)। তিনি বলেন, ‘ঈদের একদিন আগে বাড়িতে এসেছি। ঈদের দিন তো কোথাও বেড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায় না। ঈদের পর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সন্তানদের নিয়ে গোর-এ শহীদ ময়দানে এসেছি। দিনাজপুরে সেরকম কোনো বিনোদনের জায়গা না থাকায় এখানেই এসে ঘুরে যাই।

মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে দিনাজপুর পৌরসভার একমাত্র শিশু পার্ক। শিশু পার্ক নাম হলেও সেখানে শিশু পাওয়া দুষ্কর। দীর্ঘসময় শিশু পার্কটির সংস্কার কাজ না হবার ফলে অকেজো হয়ে আছে দোলনা ও চরকি। ফলে শিশু পার্কটি মূলত ব্যায়াম করার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলন বলেন, ‘দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ময়দানে মানুষের ভিড় থাকে বিভিন্ন উৎসবে।

শিশু পার্কের বিষয়ে তিনি বলেন, শিশু পার্কটি সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। খুব শিগগিরই সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।’


আরও পড়ুন