আন্তর্জাতিক - আগস্ট ১৮, ২০১৯

মাধ্যাকর্ষণের আবিষ্কার ভারতীয় শাস্ত্রে!

মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কার করেছেন ভারতীয়রাই। এমনই বেফাঁস মন্তব্য করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল।

‘জ্ঞান মহোৎসব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইআইটি ও এনআইটি-র একাধিক শীর্ষ কর্তা ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। তাদের উদ্দেশেই পোখরিয়াল বলেন, “আমি তো সবসময় বলি, আমাদের বিজ্ঞান গবেষণার কাজে আরও অগ্রগতি করতে হবে।”

এরপরই তিনি বলেন, “আমি যখন বলি, ভারতবর্ষ বহু প্রাচীন কাল থেকেই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ছাপ রেখে আসছে, তখন তরুণ প্রজন্মের অনেকে ভাবে, মানবসম্পদমন্ত্রী এ সব কী বলছে! কিন্তু এটাই সত্যি। আপনারা আর্যভট্ট-এর নাম শুনেছেন। তার চিন্তার কথা জানেন। তেমনই নিউটন মাধ্যাকর্ষণ আবিষ্কার করার অনেক আগেই ভারতীয় শাস্ত্রে তার ধারণা দেওয়া ছিল।”

শনিবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের মঞ্চ শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।

মোদী সরকার নতুন যে শিক্ষা বিল আনছে, সে ব্যাপারেই সেমিনার ছিল এ দিন। উপস্থিত ছিলেন সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভগবত, যোগগুরু বাবা রামদেব-সহ আরও অনেকে। অনেকের মতে, নতুন যে শিক্ষাবিল আনা হচ্ছে তা একেবারেই নাগপুরের আরএসএস সদর দফতর থেকে ছকে দেওয়া। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রভাত পট্টনায়েক, জয়তী ঘোষের মতো শিক্ষাবিদ, তিস্তা শীতলতাবাদের মতো সমাজকর্মী-সহ বহু বিশিষ্ট মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, ভারতের প্রাচীন সেই বিজ্ঞান চেতনাই এ বার নতুন শিক্ষাবিলের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাবে।

এমনিতে বিজেপি নেতাদের বিজ্ঞান বিষয়ক নানান বাণী নিয়ে নানা সময়ে হইহই হয়েছে। কখনও কেউ বলেছেন গণেশের মুখই পৃথিবীর প্রথম প্লাস্টিক সার্জারি, তো কেউ বলেছেন গরুর গায়ে হাত বোলালে অক্সিজেন বেরোয়। এ বার সেই তালিকায় নবতম সংযোজন পোখরিয়াল।


আরও পড়ুন