আন্তর্জাতিক - আগস্ট ১৯, ২০১৯

সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখল হংকং

চীনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এবার সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে হংকংয়েরে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা। ১০ সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে বহুবার পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একপর্যায়ে হংকংয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিও বন্ধ হয়ে যায়। তবে এ সপ্তাহের বিক্ষোভ সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়। সম্প্রতি হংকংয়ের পার্শ্ববর্তী সেনজেন প্রদেশে বিপুল পরিমাণ সাজোয়া যান ভিড়িয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে চীন।

বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা ‘সিভিল হিউম্যান রাইটস ফ্রন্ট’ হংকংয়ের রাস্তায় বিক্ষোভ করতে চাইলে তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। শেষমেশ তাঁরা হংকংয়ের ভিক্টোরিয়া পার্কে জড়ো হন এবং পরে রাজপথের দিকে এগিয়ে যান।

যেকোনো সন্দেহভাজন অপরাধীকে চীন সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার একটি প্রত্যর্পণ বিল নিয়ে গত এপ্রিলে হংকংয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ বিল বাস্তবায়ন হলে হংকংয়ের আইনি স্বাধীনতায় চীন হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পাবে এবং যেকোনো সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনের হাতিয়ার হিসেবে এটাকে ব্যবহার করা হবে বলে সমালোচকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এর পর থেকেই হংকংয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরো বেগবান হয়। একপর্যায়ে বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিলটি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে হংকং প্রশাসন। কিন্তু তাতেও না দমে বিক্ষোভকারীদের দাবি করেন, বিলটি স্থায়ীভাবে বাতিল করতে হবে। আন্দোলনকারীরা আরো দাবি করেন, হংকংবাসীদের পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নিপীড়নের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। 

অব্যাহত আন্দোলন-বিক্ষোভ জনজীবনে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি করছে। বিক্ষোভকারীদের প্রতি চীন সরকার কঠোর ভাষায় সমালোচনা করছে। বিক্ষোভে অংশ নেয়া গণিতের শিক্ষক সিএস চান বলেন, কয়েক মাস ধরে সরকার আমাদের উপেক্ষা করছে। আমরা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখব। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে হংকংকে পায় চীন।

এরপর অঞ্চলটির সংক্ষিপ্ত নতুন সংবিধান তৈরি করা হয়। এ অনুযায়ী হংকং সরকার চাইলে চীন সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

এছাড়া ‘জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এবং দুর্যোগের সময় ত্রাণকাজে’ চীন হংকংয়ে সামরিক বাহিনী পাঠাতে পারবে। তবে বেশির ভাগ বিশ্লেষক বলছেন, এ পর্যায়ে পিএলএ বা পিপলস লিবারেশন আর্মির সেনাদের হংকংয়ের রাস্তায় নামানোর বিষয়টি অনেকটা অকল্পনীয়। হস্তান্তরের পর থেকে হংকংয়ে পিএলএ’র প্রায় পাঁচ হাজার সেনা রয়েছে।

ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটির গবেষক অ্যাডাম নাই বলেন, এটা মূলত চীনা সার্বভৌমত্বের একটা প্রতীকী উপস্থিতি। তবে ৩১ জুলাই সেনানিবাস তাদের নীরব ও পরোক্ষ ভূমিকা ভঙ্গ করেছে। প্রতিবাদ নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে।

এতে দেখা যায়, সেনারা ক্যান্টনিজ ভাষায় চিৎকার করছে, এর পরিণতির জন্য আপনারা দায়ী থাকবেন! সেনারা বিক্ষোভকারীদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ফুটেজের একটি দৃশ্যে দেখা যায়, পুলিশ একটি ব্যানার ধরে রয়েছে।

এতে লেখা, অগ্রসর হওয়া বন্ধ কর, অন্যথায় আমরা শক্তি ব্যবহার করব। সাধারণত অসন্তোষের সময় হংকং পুলিশ এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করে।


আরও পড়ুন