দেশের খবর - আগস্ট ২১, ২০১৯

কসবায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালের দৌরাত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় (২০ আগস্ট) মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালত দুই ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের তিন কর্মচারীকে আটক করেন ভ্রাম্যমান আদালত।

আটককৃতরা হলেন মা মনোয়ারা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের দুই কর্মচারী রিফাত মিয়া ও জুয়েল মিয়া এবং ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের কর্মচারী সুমন মিয়া। পরে ভ্রাম্যমান আদালত কর্মচারীদের অপরাধের কারনে দুই ডায়াগনষ্টিক সেন্টার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

ভ্রাম্যমান আদালত, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কসবা উপজেলা সদরে অবস্থিত উপজেলা কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের সামনে ও আশে-পাশে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি বে-সরকারি ডায়গনষ্টিক সেন্টার। ওই সেন্টারগুলিতে হাসপাতাল থেকে রোগী আনার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে দালাল। রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গেলেই দালালরা ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানা হেচরা করতে থাকে। এতে করে বিরক্তের শিকার হতে হচ্ছে রোগীদের। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সম্বনয় সভায় আলোচনার ঝড় উঠে।

কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কে.এম. হুমায়ুন কবির বলেন, ডায়গনিষ্ট সেন্টারের নিয়োগপ্রাপ্ত দালালরা হাসপাতালে আসতে তাদেরকে একাধিকবার বাঁধা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তারপরও তাদের দৌরাত্ম কমছেনা।

নির্বাহী হাকিম কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে দুই ডায়গনষ্টিক সেন্টারের তিন কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমান আদালত দুই ডায়গনষ্টিক সেন্টার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে তিন কর্মচারীকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলম বলেন, বিভিন্ন ডায়গনষ্টিক সেন্টারে নিয়োগপ্রাপ্ত দালালরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের তাদের নিজস্ব ডায়গনষ্টিক সেন্টারে পরীক্ষার করানো জন্য রোগীদের টানা হেচরা করেন। এদের  আচরনে রোগিরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে।

হাসপাতালে দালালরা রোগীদের টানা হেচরার বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সম্বনয় সভায় আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনার প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।


আরও পড়ুন