বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে ময়মনসিংহে গঠন করা হয়েছিলো ‘জাতীয় মুক্তি বাহিনী’

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ময়মনসিংহে গঠন করা হয়েছিলো ‘জাতীয় মুক্তি বাহিনী’। ৩ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধার সমন্বয়ে বাছাই করা ৭ হাজার যুবক ও ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত হয় বিশেষ এই বাহিনী। দীর্ঘ ১৯ মাস ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) সাথে অব্যাহত যুদ্ধ চালিয়ে যায় বীরত্বগাঁথা এ বাহিনী। কিন্তু এখনও অবহেলিত বিশেষ এই বাহিনীর বীর যোদ্ধা ও তাদের পরিবার। পরিবার নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন বহু যোদ্ধা। বীর যোদ্ধা এবং তাদের স্ত্রী-সন্তানরা সরকারের নানান সুযোগ-সুবিধা এবং প্রাপ্য সম্মান চান। সূত্র মতে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রথম ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো ময়মনসিংহ থেকেই।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ময়মনসিংহে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিলো। ইতিহাসের কলঙ্কময় এই হত্যাকাণ্ডের খবর পৌঁছার পরই ময়মনসিংহ শহর নিস্তব্ধ হয়। হতভম্ব হন সর্বস্তরের মানুষ। অঘোষিত কারফিউ জারি থাকায় সৃষ্টি হয় ভূতুড়ে পরিবেশ। নামানো হয় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) ও পুলিশ। গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতারা। শুরু হয় ধরপাকড়। গ্রেফতার হন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অর্ধশত নেতা। তাদের অনেককেই আটকাদেশ (ডিটেনশন) দিয়ে পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়ানো হয়। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সবাই মুক্তি পান। একই সময় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। পরে তাকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর হয়। কলঙ্কময় ১৫ আগস্ট এবং তার পরবর্তী সময় নিয়ে রবিবার কথা হয় ময়মনসিংহ ও হালুয়াঘাটের কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে। তারা সবাই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য গঠন করা ‘জাতীয় মুক্তি বাহিনী’র অন্যতম সেক্টর কমান্ডার বর্তমানে প্রতিরোধ যোদ্ধা পরিষদের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর দেলোয়ার হোসেন দৈনিক জাগ্রত বাংলাকে বলেন, সপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো ময়মনসিংহের মাটি থেকেই। গর্জে উঠেছিলো এ অঞ্চলের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ৩ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার সমন্বয়ে বাছাই করা ৭ হাজার যুবক ও ব্যক্তিকে নিয়ে গঠন করা হয়েছিলো জাতীয় মুক্তি বাহিনী। বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আব্দুল কাদের সিদ্দিকী সুযোগ খুঁজতে থাকেন। সাহসী কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে সাথে নিয়ে নভেম্বর মাসের শুরুতে তিনি ময়মনসিংহ শহরে আসেন। বৈঠক করেন রেবতী মোহন চক্রবর্তী ও সুধীর চন্দ্র দাসসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে। পরে হালুয়াঘাট সীমান্তের গোবড়াকুড়ায় এসে আমাদের সাথে বৈঠক করেন। আব্দুল কাদের সিদ্দিকী হালুয়াঘাট, নালিতাবাড়ি ও ঝিনাইগাতী সীমান্তে অবস্থানের পর আমাদের নিয়ে সীমান্তের ওপারে চলে যান। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পরপর ২ বার ভারতে গিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর সাথে বৈঠক করে ফিরে আসেন। তৃতীয় দফায় বৈঠকের পর ভারত সরকারের সহযোগিতায় শুরু হয় ‘জাতীয় মুক্তি বাহিনী’র কর্মকাণ্ড। মানুষ এখনও বীরত্বগাঁথা এই বাহিনীকে চিনে ‘কাদেরিয়া বাহিনী’ নামে।

সূত্র জানায়, মূলত ৩টি সেক্টরে বিভক্ত ছিলো ‘জাতীয় মুক্তি বাহিনী’। টাঙ্গাইলের আনোয়ারুল হক সেলিম তালুকদার নেত্রকোনা সীমান্তের ওপারে মেঘালয়ের ভবানীপুরে, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের মীর দেলোয়ার হোসেন ময়মনসিংহ সীমান্তের ওপারে মেঘালয়ের ডুমনি কুড়ায় এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দার সুকুমার সরকার নেত্রকোনা সীমান্তের মেঘালয়ের মহাদেও-এ অবস্থান করে ৩টি সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। হালুয়াঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার কবিরুল ইসলাম বেগ বাহিনীর হেডকোয়ার্টার কমান্ডারসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। আনোয়ারুল হক সেলিম তালুকদার জাতীয় মুক্তি বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন। বর্তমানে তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি। দুর্গাপুর-কলমাকান্দা আসনের সংসদ সদস্য মানু মজুমদার বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। মীর দেলোয়ার হোসেন সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্যের পাশাপাশি ময়মনসিংহ বিভাগে সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মীর দেলোয়ার হোসেন জানান, সুনামগঞ্জ থেকে কুড়িগ্রাম জেলার ওপারে দেড় শতাধিক অস্থায়ী ক্যাম্প করে আমরা দীর্ঘ ১৯ মাস বিডিআরের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাই। প্রতিদিনই দীর্ঘ ৩২২ কিলোমিটার সীমান্তের একাধিক পয়েন্টে বিডিআরের সাথে আমাদের যুদ্ধের ঘটনা ঘটতো। ১৯৭৫ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৭৭ সালের মে মাস পর্যন্ত আমরা ভারতে অবস্থান করে ৩২২ কিলোমিটার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে রাখি। দীর্ঘ ১৯ মাসের অব্যাহত যুদ্ধে আমাদের বাহিনীর ২ শতাধিক সদস্য শহীদ হন। ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনার পর ১৯৭৭ সালে যুদ্ধ বিরতি চুক্তির মাধ্যমে ‘জাতীয় মুক্তি বাহিনী’র সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। অনেকেই আবার পালিয়ে ভারত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, আব্দুল কাদের সিদ্দিকীসহ আমরা ১৮ জন ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেই। অন্যদিকে চুক্তি অনুযায়ী বাহিনীর সদস্যদের পুনর্বাসন না করে ৫ শতাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে আটক রাখা হয়। সামরিক আদালত গঠন করে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশ্বজিৎ নন্দীসহ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করার পর বিশ্বজিৎ নন্দীর ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করেন।

জানা যায়, এরশাদ সরকারের শেষ সময়ে ১৯৯০ সালে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ভারত সরকারের সাথে যোগাযোগ করে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীসহ অন্যদের দেশে ফিরিয়ে আনেন। পরে প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কারণে শেখ হাসিনার সাথে আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর ব্যাপক দূরত্ব সৃষ্টি হয়। সরাসরি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘটনায় কাছের সহযোগীদের সাথেও তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে ১৯৯৭ সালে ‘জাতীয় মুক্তি বাহিনী’ বিলুপ্ত ঘোষণা করে গঠন করা হয় ‘প্রতিরোধ যোদ্ধা পরিষদ’। বিরল দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী বীর যোদ্ধাদের অনেকেই মানবেতর জীবন-যাপন করছিলেন। পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছিলো তাদের। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে গর্জে উঠা বিশেষ এ বাহিনীর অনেক সদস্যের এখন পর্যন্ত নাম নেই মুক্তিযোদ্ধা তালিকায়। আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে ‘প্রতিরোধ যোদ্ধা পরিষদ’ সদস্যদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে খোলা হয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন সেল। এখন পর্যন্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন ৫ হাজারেরও বেশি বীর যোদ্ধা। এরই মধ্যে অনেকেই ২৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ সহায়তা পেয়েছেন। জটিলতা নিরসন হলেই প্রতিরোধ যোদ্ধা পরিষদ সদস্যরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় স্থান পাবেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রতিরোধ যোদ্ধা পরিষদের অন্যতম নেতা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা পরিমল চন্দ্র সাহা দৈনিক জাগ্রত বাংলাকে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসেছিলাম বলেই আমরা মহান এ নেতার ডাকে সাড়া দিয়ে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। দেশ স্বাধীনের সাড়ে ৩ বছরের মাথায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শেখ মুজিবুর রহমান পরিবার-পরিজনসহ নৃশংসভাবে শহীদ হন। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রতিশোধ নিতে আমরা আবারও যুদ্ধে নামি। এভাবেই যুদ্ধে যুদ্ধে কাটিয়ে দেই দীর্ঘ ১৯ মাস। তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রাপ্য সম্মানটুকু নিয়ে বাঁচতে চাই।

প্রতিরোধ যোদ্ধা সন্তান পরিষদের মুখপাত্র খন্দকার ইঞ্জিনিয়ার মোঃ বাকি বিল্লাহ লিঠু জানান, ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসেছিলেন বলেই নৃশংসভাবে তাকে হত্যার পর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে দীর্ঘ ১৯ মাস যুদ্ধ করেছেন। সেই সব বীর যোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এখনও অবহেলিত। অনেক পরিবারেই রয়েছে চরম অর্থ সঙ্কট। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তাদের। সরকার যদি এই সব যোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রাপ্য সম্মানটুকু দেয় তাহলে পরিবারগুলো ভালোভাবে দিন কাটাতে পারবে। তিনি বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তারা তো রাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার দাবি রাখেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিক্রিয়া

সাবেক ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বারবার কারাবরণ ও জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন। দেশী-বিদেশী চক্রান্তের শিকার হয়ে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মহান এ নেতা। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ফুলবাড়ীয়া আসনের এমপি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মোঃ মোসলেম উদ্দিন জানান, কোনো সভ্য মানুষের পক্ষে এ ধরণের হত্যাকাণ্ড ঘটানো অসম্ভব। বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। গৌরীপুর আসনের এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশ নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদেরকে ভূমিকা রাখতে হবে। ময়মনসিংহের পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদুল ইসলাম জানান, জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে এ খবর শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েছিলাম। স্তব্ধ হয়েছিলাম কিছুক্ষণের জন্য।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও ফুলপুর আসনের এমপি শরীফ আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। বাংলাদেশের স্থপতি মহান এ নেতাকে জাতি যুগযুগান্তর মনে রাখবে। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ ইকরামুল হক টিটু জানান, বঙ্গবন্ধু জন্মেছিলেন বলেই বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ আজ উল্লেখযোগ্য নাম। আমরা এখন সারা বিশ্বে বীরের জাতি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, সেদিন ভোরের ট্রেনে বাড়ি যাওয়ার জন্য গফরগাঁওয়ের কাওরাইদ স্টেশনে নামি। রেডিও’র খবরে জানতে পারি সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। ভেবেছিলাম প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আমার একটি অস্ত্র প্রয়োজন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল বলেন, ১৫ আগস্ট সকালে রেডিওতে মেজর শরিফুল ইসলাম ডালিমের ঘোষণা বিশ্বাস করতে পারি নাই। নির্বাক নিস্তব্ধ হয়ে থমকে যাই। আকাশ বাণীর সকাল ৮ টার খবরে বিস্তারিত জানতে পারি। ততক্ষণে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম-গ্রামান্তরে। ময়মনসিংহ শহরে বিডিআর-পুলিশের যৌথ টহল। অঘোষিত কারফিউ চলে টানা ৩ দিন। আত্মগোপনে যান যুবক ও মধ্য বয়সী হাজার হাজার মানুষ।

সূত্র জানায়, ইতিহাসের কলঙ্কময় ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পরই বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল ফারুক আহমেদ ময়মনসিংহ শহরে আসেন। তিনি আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠের বিপরীতে মামার বাড়িতে অবস্থান করেন। ওই সময় ময়মনসিংহ শহরের অনেকের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করেন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে। ফ্রিডম পার্টি গঠনের পর বৃহত্তর ময়মনসিংহের রাজনীতি দেখভাল করতেন খুনি ফারুক। প্রসঙ্গত, বাঙালি ও বাংলাদেশের শোকের দিন ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের কালো দিনটিতে জাতি হারিয়েছে তার গর্ব, আবহমান বাংলা ও বাঙালির আরাধ্য পুরুষ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শেখ মুজিবুর রহমান পরিবার-পরিজনসহ নৃশংসভাবে শহীদ হন। কিছু বিশ্বাসঘাতক পথভ্রষ্ট রাজনীতিবিদের চক্রান্ত ও সেনাবাহিনীর কতিপয় উচ্চাবিলাসী বিপথগামী সদস্যের নির্মম বুলেটের আঘাতে সেদিন বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রাণ হারান তার প্রিয় সহধর্মিণী বেগম শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, ৩ ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, সেনা কর্মকর্তা শেখ জামাল ও ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল এবং নবপরিণীতা ২ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। প্রবাসে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর ২ মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। আগস্টের সেই হত্যাকাণ্ডে আরও প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, শিশু সুকান্ত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, নিকটাত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা সামরিক সচিব কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন নিরাপত্তা কমকর্তা-কর্মচারী। সূত্র- দৈনিক জাগ্রত বাংলা।


আরও পড়ুন