ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০

ফরিদপুরে পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে ১০ জন নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে সেতুর রেলিং ভেঙে যাত্রীবাহী বাস কুমার নদে পড়ে আটজন নিহত হন। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-ফরিদপুর মহাসড়কের ফরিদপুর সদরের মাচ্চর ইউনিয়নের ধুলদি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস দুর্ঘটনায় পড়ে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি এফএম নাছিম জানান, ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের পাটগাতিগামী যাত্রীবাসী বাসটি ঘটনাস্থলে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিং ভেঙে বাসটি নদে পড়ে যায়।

এতে ঘটনাস্থলেই ছয় যাত্রী এবং হাতপাতালে আরো দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হন কমপক্ষে ২০ যাত্রী। তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দার তালমা নামক এলাকায় দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে যাত্রীবাহী লোকাল বাসের ধাক্কায় মারা যান মা-ছেলে ও এক পথচারী।

ফরিদপুর সদরের মাচ্চর ইউনিয়নের ধুলদি এলাকায় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও হাইওয়ে থানা পুলিশ, কোতয়ালী থানা পুলিশসহ স্থানীয় এলাকাবাসী উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক শওকত আলী জোদ্দার জানান, আহতদের ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হলে সেখানে আরো দুই ব্যক্তি নিহত হয়।

ফরিদপুর অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কমফোর্ট পরিবহনের বাসটি দ্রুত গতি থাকায় সেতুতে ওঠার পর একটি মোটরসাইকেলকে সাইড দেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে নিচে পড়ে যায় বাসটি। 

বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এ ঘটনায় নিহত দুজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তাদের নাম হাবিবুর রহমান ও ফারুক হোসেন, তাদের দুজনের বাড়ি গোপালগঞ্জ এ। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ পুরুষ ও তিনজন নারী।

দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করেন।

আহতদের দ্রুত সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ফরিদপুর সদর আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান এমপির এপিএস এইচএম ফোয়াদ।

তিনি বলেন, আহত রোগীদের রক্তের প্রয়োজন হলে ছাত্রলীগের কর্মীদের রাখা হয়েছে, এ ছাড়া মেডিকেল কলেজের মেডিসিন ক্লাব ও সন্ধানী দাতা ক্লাবের কর্মীদের রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনার বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করবে। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

অপরদিকে শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দার তালমায় বাজার এলাকায় বাসচাপায় তিনজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন, রেশমা বেগম (৩০) ও তার ছেলে রাজু (১০), এবং আবুল সিকদার নামের আরো এক পথচারী।

ফরিদপুরের নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ফরিদপুর মিনিবাস মালিক সমিতির একটি যাত্রীবাহী লোকাল বাস পেছন থেকে একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে রিকশার যাত্রী রেশমা বেগম (৩০) ও তার ছেলে রাজু (১০) ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ছাড়া আবুল সিকদার নামের এক পথচারী আহত হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।


আরও পড়ুন