আফগান স্পিনে ভয় টাইগারদের!

দেশের মাটিতে টেস্ট মানেই টাইগার স্পিনারদের রাজত্ব। সাম্প্রতিক অতীতে ক্রিকেটের অভিজাত ফরম্যাটে টিম বাংলাদেশের যত সাফল্য, তার নেপথ্যে ছিলেন স্পিনাররাই। স্পিনবান্ধব উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সাকিব-তাইজুল-মিরাজরা কাঁদিয়ে ছেড়েছেন ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের। টেস্টের নবীনতম সদস্য আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানদের সামনে তারা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৫ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া টেস্টে স্পিনবান্ধব উইকেট পাচ্ছেন না তারা। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান শিবিরেও যে বেশ কয়েকজন দুর্দান্ত স্পিনার রয়েছেন। তাই আফগান ব্যাটসম্যানদের জন্য স্পিন-ফাঁদ পেতে সেই ফাঁদে নিজেরাই পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছে না স্বাগতিকরা।

রশিদ খান এই সময়ের সেরা লেগস্পিনার। তার নেতৃত্বেই এবার বাংলাদেশে আসছে আফগানিস্তান। দলের সঙ্গে আসছেন এখনও টেস্ট ক্রিকেটের স্বাদ না পাওয়া আরেক লেগস্পিনার কায়েস আহমেদ। কয়েকদিন আগেই আফগানিস্তান ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ সফর করে গেছেন তিনি। ১৯ বছর বয়সি এই তরুণের স্পিন সামলাতে রীতিমতো গলদঘর্ম হয়েছেন ইমরুল-বিজয়-সৌম্যরা। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ-সাকিবদের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন তিনি। অন্যদিকে সময়ের সেরা রশিদ তো বরাবরই টাইগার ব্যাটসম্যানদের জন্য হুমকি। লেগস্পিনের বিপক্ষে তারা তুলনামূলক দুর্বল, তারওপর যদি স্পিন সহায়ক উইকেট পেয়ে যান রশিদ-কায়েসরা, দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।

এই সত্যটা বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), উপলব্ধি করছেন দলের ক্রিকেটাররাও। তাই নেটে ব্যাটিং অনুশীলনে লেগস্পিন মোকাবেলায় বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছেন সবাই। বিভিন্ন অ্যাকাডেমিতে থাকা লেগস্পিনারদের এনে বোলিং করানো হচ্ছে নেটে। এতেও ভয় কাটছে না। কারণটা পরিষ্কার, নেটবোলার যারা আছেন মানের দিক থেকে তারা কেউই রশিদ-কায়েসের ধারেকাছের নন। তাই চিরাচরিত স্পিন-সহায়ক উইকেট না বানিয়ে আফগানদের বিপক্ষে পেস-সহায়ক উইকেটে খেলাটাকেই শ্রেয় মনে করা হচ্ছে। পরিকল্পনাও সাজানো হচ্ছে সেভাবে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট এবং এরপরের ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে ১৯ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প। শুরুতে না থাকলেও ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। ছুটি কাটিয়ে শনিবার দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন টাইগারদের টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে ঢাকায় পা রেখে শনিবার সাতসকালেই মিরপুরে হাজির হয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। কোচের সঙ্গে পরিচয়পর্ব সেরে কাজ করেছেন ফিটনেস নিয়ে, এরপর নেটে ঘাম ঝরিয়েছেন ব্যাটিং অনুশীলনে।

এদিনই অধিনায়ক সাকিব, প্রধান কোচ ডমিঙ্গো এবং দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন আর হাবিবুল বাশারকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক সভায় বসেছিলেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান। সেখানেই কথা হয়েছে আসন্ন আফগান সিরিজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। সঙ্গত কারণেই সেই পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে জানাননি আকরাম। তবে সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কিছুটা আভাস দিয়েছেন, ‘বিশ্বকাপের পর আমাদের কোচিং স্টাফে অনেক পরিবর্তন এসেছে। অধিনায়ক, কোচ, নির্বাচক আমরা সবাই আলাপ-আলোচনা করেছি। পরের মাসের সিরিজ নিয়ে আলোচনা করেছি। এই সিরিজে দলের শক্তি ও কন্ডিশন কেমন থাকবে, এসব নিয়ে ভালো আলোচনা হয়েছে।’

অর্থাৎ আফগানিস্তানের বিপক্ষে কেমন উইকেটে খেলা হলে কাক্সিক্ষত সাফল্য পাওয়া যাবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে সভায়। সেই আলোচনার সারমর্ম হচ্ছে রশিদ-কায়েসদের নিষ্ক্রিয় রাখতে বানানো হবে পেস সহায়ক উইকেট। আকরাম সেটা পরিষ্কার করেই বললেন, ‘সাধারণত যে ধরনের উইকেট থাকে সেটা তো জানেনই। আমরা স্বাগতিক, দেশের মাঠের সুবিধা বেশি থাকবেই। উইকেটে তেমন পরিবর্তন আসবে না। চেষ্টা করছি ট্রু উইকেট করতে, যেন ঘাস থাকে। সেখানে যেন ফাস্ট বোলাররা সুবিধা পায়।’

প্রধান কোচ ডমিঙ্গো দেশে এবং দেশের বাইরে ধারাবাহিকভাবে দলকে সাফল্য এনে দিতে চান। সেভাবেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন তিনি। বিষয়টা মনে ধরেছে আকরামের।


আরও পড়ুন