কিশোরগঞ্জে জুম্মার বয়ানে ধর্মীয় সম্প্রীতিবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য

কিশোরগঞ্জে সার্কিট হাউজ সংলগ্ন গাইটাল মুন্সিবাড়ি জামে মসজিদে জুম্মার বয়ানে ইমাম ধর্মীয় সম্প্রীতিবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। শুক্রবারে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট ও সাম্প্রদায়িক উস্কানির বক্তব্য দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানান, ২৩ আগষ্ট (শুক্রবার) তারিখে গাইটাল সার্কিট হাউজ সংলগ্ন মুন্সিবাড়ি জামে মসজিদে জুম্মার বয়ানে স্থানীয় কিছু ইসলামী উগ্রপন্থীদের আহবানে নির্ধারিত ইমামের পরিবর্তে মাওলানা জনৈক আলী আহমদ খুতবার বিষয়বস্তু রেখে শুধু উত্তেজিত ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বয়ান দেন। যা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের লক্ষণ। এটি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। এতে স্থানীয় কয়েকজন উগ্রপন্থী মুসল্লি তা সেইম সেইম বলে সমর্থন দেয়।

পরে এ উগ্র বক্তব্য পুলিশ প্রশাসনের নজরে এলে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মসজিদে আসেন। সময় কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় মসজিদে মোয়াজ্জিন ছাড়া কাউকে পাওয়া যায় নি।

মসজিদ কমিটির সম্পাদকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এই ইমাম কে পাঠালো তা কমিটির জানা নেই। তাছাড়া আমি কানেও শুনি না আর অসুস্থ।

ঐদিন রাতে এশার নামাজের সময় মসজিদে পুলিশ আসার বিষয়ে জানতে চাইলে মসজিদের সদস্য মোঃ আবু বাক্কার উচ্চস্বরে অকথ্য আচরণ করেন যা রহস্যজনক।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই আমরা যথাযথ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মসজিদে যাই। নামাজ শেষ হওয়ায় সেখানে মুয়াজ্জিন ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এই মসজিদে এক সময় জঙ্গির আস্তানায় পরিণত হয়ে যাওয়ার পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা নিছার আহমদ তৎকালীন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহ কামালের নজরে নেন। যেহেতু সার্কিট হাউজ সংলগ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ, তাই তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতির পদ গ্রহণ করতে সম্মত হন এবং এডিসি (শিক্ষা)কে তার পক্ষে সভাপতি করে ২০১০ সালের পহেলা এপ্রিল নিয়োগ দেন। আজ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এ মসজিদটিতে জেলা প্রশাসকের পক্ষে এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।


আরও পড়ুন