মানবতাবিরোধী অপরাধে রাজশাহীর সামাদের মৃত্যুদণ্ড

মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিমভাগ এবং গোটিয়া গ্রামের আদিবাসী ও বাঙালিদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়ার আব্দুস সামাদ ওরফে ফিরোজ খাঁ ওরফে মুসাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


মঙ্গলবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মোট ১৭৪ পৃষ্ঠার এ রায় ঘোষণা করেন। এটি ট্রাইব্যুনালের ৩৯তম রায়।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর ঋষিকেশ সাহা ও প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।

মামলার রায়ে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পুঠিয়া আক্রমণ করে মানুষ হত্যা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করলে সামাদ হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় গোটিয়া গ্রামের আদিবাসী ও বাঙালিদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালান আব্দুস সামাদ। তার নেতৃত্বে সেখানে চলে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও। 

এছাড়া একাত্তরের ১৯ এপ্রিল তিনি ৩০-৪০ জন হানাদার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বাঁশবাড়িয়া গ্রামে যান। সেখানে তারা ২১ জনকে আটক করেন। তাদের নিয়ে রাখা হয় গোটিয়া গ্রামের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের বাড়িতে। সেখানে দিনভর নির্যাতন করে ১৭ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। হত্যা করা হয় চার জনকে। পুঠিয়ার দুর্গাপুরে সামাদের নির্দেশে তাদের গুলি করে মারা হয়। এরপর তার নির্দেশে পশ্চিমভাগ মাদ্রাসার সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় আক্কেল আলীর ছেলে আবদুস সাত্তারকে।

এর আগে, মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলাকালীন সময়ে নাশকতার অন্য এক মামলায় গ্রেফতার হন আসামি আব্দুস সামাদ। পরে ২০১৭ সালে ২৪ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


আরও পড়ুন