তথ্য প্রযুক্তি - আগস্ট ২৮, ২০১৯

ইন্টারনেটে আপনার শিশু কতটা নিরাপদ?

নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত সচেতন মা-বাবা সব সময় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় মগ্ন। তাদের প্রত্যাশা অবসর সময়ে ছেলে একটু খেলতে যাক, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিক, বাসায় রাখা বই পড়াশোনা করে চিন্তার জগৎ বৃদ্ধি করুক; কিন্তু না! সব সময় ব্যস্ত থাকে হাতে থাকা মোবাইল ফোন আর কম্পিউটারে। তার সব জগৎ ডিজিটাল প্রযুক্তির নানা গ্যাজেটকে ঘিরে। কিন্তু সে ইন্টারনেটের তথ্যবহুল ভান্ডারের মধ্য থেকে কোনো অপ্রয়োজনীয় বা অনাকাক্সিক্ষত সাইটে বিভোর নয় তো? এমন আশঙ্কা আর দিনের পর দিন কৃত্রিমতার জগতে মুখ গুঁজে পড়ে থাকার কারণেই তাদের এই উদ্বিগ্নতা।


বর্তমানে ডিজিটালাইজেশনের যুগে সন্তানের জন্য মাা-বাবার এই উদ্বিগ্নতা অমূলক নয়। কেননা সম্প্রতি শিশুরা যে ডিজিটাল ঝুঁকিতে রয়েছে সে বিষয়ে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। তারা জানিয়েছে, বিশ্বে প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন শিশু। স্কুল পড়ুয়া এসব ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল ঝুঁকি থেকে রক্ষায় পর্যাপ্ত কাজ হচ্ছে না। পরিবর্তনশীল ব্যবস্থার সঙ্গে সুরক্ষার দিক থেকে তেমন খাপ খাওয়াতে পারছে না সরকারি ও বেসরকারি কর্তৃপক্ষ। 

যার ফলে লাখ লাখ শিশু ঝুঁকির মধ্যে রয়ে যাচ্ছে। ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের কারণে সারা বিশ্বেরর লাখ লাখ শিশু উপকৃত হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে তারা সহিংসতা, শোষণ ও নির্যাতনের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।  বিশ্বে প্রতিদিন ১ লাখ ৭০ হাজার শিশু অনলাইনে যুক্ত হচ্ছে। তবে কোনো দেশেই এসব শিশুদের ইন্টারনেটে সুরক্ষা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা এখনও নেওয়া হচ্ছে না। তাই একজন শিশু যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলে তখন সেসব সাইটে তার সর্বোচ্চ প্রাইভেসি সেটিংসের ব্যবস্থা থাকা উচিত। 

বাংলাদেশে এখন ইন্টারনেটে যুক্ত আছে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ আর এখানে ১৫-১৯ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ অনলাইনে যুক্ত আর ৮০ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যুক্ত আছেন ফেসবুকে যুক্ত বলে জানা যায়। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকি মারাত্মক পর্যায়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে যারা অনলাইনে গেম খেলে তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, যার মধ্যে ১৮-৬৪ পর্যন্ত অনেকেই রয়েছে। কিন্তু কমবয়স্ক শিশুরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে বেশি।

এ ছাড়া শিশুরা অনলাইনে গালাগালি, বর্ণবাদী ও যৌনতা বিষয়ক নানা আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হচ্ছে। ইন্টারনেটের শিশু ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে, সে কারণে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে অনাকাক্সিক্ষত কোনো কন্টেন্টে যাতে তারা মোহগ্রস্ত না হতে পারে সে জন্য খেয়াল রাখতে হবে অভিভাবকদের। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি আমাদেরও সময় এসেছে ইন্টারনেটে শিশু সুরক্ষার বিষয়টি ভেবে দেখার। যেন অভিভাবককে এ নিয়ে আর উদ্বিগ্ন না হতে হয়।


আরও পড়ুন