তাড়াইল - 4 weeks ago

তাড়াইল খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা ( ওসিএলএসডি) ছাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে চলতি মৌসুমে সরকারিভাবে ধান চাল সংগ্রহের নামে  ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভা চলাকালে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের  আশেপাশে অবস্থান নিয়ে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর মৌখিক দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হক আকন্দ তাঁর বক্তব্যে কৃষকদের দাবীর ভিত্তিতে ওসিএলএসডি’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তপূর্বক  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

মুহুর্তেই এই খবর উপজেলা সদরে ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে সামনে এসে অবস্থান নেন এবং  খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করেন। এসময় অবস্থা বেগতিক দেখে  খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সমন্বয় কমিটির সভা থেকে বের হয়ে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মাহমুদ এবিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের পূর্ব সাচাইল গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল হামিদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি গরিব মানুষ মাথার গাম পায়ে ফেলে ধান মাড়াই করেছি কিন্তু খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারছিনা প্রায় একমাস যাবৎ ওসিএলএসডি  স্যারের সাথে যোগাযোগ করলে উনি বলেন, নেবো নিচ্ছি। তবে শোনেছি টাকা দিলেই নাকি উনি ধান নেন।

বেলংকা গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া জানান, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেড়মাস ধর্ণা দেয়ার পর কর্মকর্তা ছাইদুর রহমান আমার কাছ থেকে এক টন ধান নেয়ার শর্তে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। অনেক অনুরোধের পর তাঁর হাতে আড়াই হাজার টাকা তুলে দিয়ে গুদামে ধান নিয়ে গেলে আমার ধান উপযোগী নয় বলে ধান গুলো নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। পরে আরো এক হাজার চারশত টাকা উনার হাতে তুলে দিলে তিনি আমার ধান গুলো সংগ্রহ করেন।শুধু বাবুল মিয়াই নয় চলতি মৌসুমে উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহকারী কয়েকজন কৃষকেরর সাথে কথা হলে তারা জানিয়েছেন টন প্রতি তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে দিলেই তিনি তাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেন।


এদিকে চলতি মৌসুমে সরকারিভাবে ৩৬ টাকা  কেজি দরে ৭১৯ টন চাল সংগ্রহ করার লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। স্থানীয় চারটি রাইস মিলকে এসব চাল সংগ্রহের জন্য চুক্তিবদ্ধ করছেন উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা। ইতিমধ্যেই চুক্তিবদ্ধ এসব মিল থেকে ৫৭৫ টন সংগ্রহ দেখানো হয়েছে।কিন্তু বাস্তবে চারটির মধ্যে তিনটি মিলই  বন্ধ। অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মিল মালিকদের যোগসাজশে গুদাম থেকে বের হওয়া টি আর, কাবিকা প্রকল্পের পুরোনো চাল মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে কিনে গুদামে সরবরাহ করেছেন। এতে ৫৭৫ টন চাল সংগ্রহ থেকে  খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ও মিল মালিকগণ মিলে টন প্রতি ২১ হাজার টাকা হিসেবে ৫৭৫ টন চাল থেকে ১ কোটি ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগার থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন।


এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি)ছাইদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ  করা হয়েছে এবং কোনো টাকা নেয়া হয়নি।তবে বন্ধ রাইস মিল থেকে কিভাবে চাল উৎপাদন করে ৫৭৫ টন চাল গুদামে সরবরাহ করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিরব থাকেন।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারেক  মাহমুদ বলেন, খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে  পরিষদের  মাসিক সমন্বয় সভায় অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া স্থানীয় কৃষকরাও সভা শেষে আমার কার্যালয়ে এসে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেছেন।এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে  এবং অভিযোগ প্রামানীত হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরও পড়ুন