দৃশ্যমান মেট্রোরেলের ৭ কিলোমিটার

মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে পিলারের ওপর বসানো প্রায় ৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট। এই অংশে নির্মাণকাজের বাস্তব অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ।

আগামী নভেম্বর থেকে ভায়াডাক্টের ওপর রেললাইন (রেলট্র্যাক) ও বৈদ্যুতিক লাইন বসানোর কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক। নির্ধারিত সময়ে মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্যে প্রকল্পের কাজ দিন-রাত একটানা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাপানে মেট্রোরেলের ২৪ সেট অত্যাধুনিক রেলকোচ নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সংশ্লিষ্টরা জানান, উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে মেশিনের মাধ্যমে রেললাইন বসাতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে। স্টেশনগুলোর ওপর বসানোর জন্য স্টিলের ফ্রেমও জাপানে তৈরি করা হচ্ছে। মেট্রোরেলের আগারগাঁও থেকে মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংক অংশের কাজ ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।


স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে মেট্রোরেল চালু হওয়ার কথা। এ লক্ষ্যে প্রকল্পটির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আগারগাঁও থেকে মিরপুর হয়ে উত্তরার দিকে এখন দৃশ্যমান পিলারের ওপর মেট্রোরেল রুট ভায়াডাক্ট। এই ভায়াডাক্টের ওপরই বসবে রেললাইন বা রেলট্র্যাক। এরই মধ্যে ৮০ ভাগ রেলট্র্যাক বসানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার মেট্রোরেল পথে ১৬টি স্টেশন থাকবে।


ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, প্রথম পরিকল্পনা অনুযায়ী মেট্রোরেল প্রকল্প ২০১২-২৪ সালে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এখন তিন বছর আগেই শেষ হবে। তিনি জানান, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালের জুন মাসে শেষ করা হবে। এরপর ৬ মাস ট্রায়াল রান চলবে ত্রæটি-বিচ্যুতিগুলো ধরার জন্য, যাতে কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা না থাকে। এরপর ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাণিজ্যিকভাবে মেট্রোরেল চালু করা হবে। তিনি আরও জানান, আমাদের এখানে পৃথিবীর সর্বশেষ প্রযুক্তির কোচগুলো আনা হচ্ছে। যখন এগুলো চলতে শুরু করবে তখন তা অন্যান্য দেশের চেয়ে উন্নতর ও আধুনিক হবে। আর দেশের প্রথম মেট্রোরেল (উত্তরা-মতিঝিল) হবে সম্পূর্ণ এলিভেটেড ও বিদ্যুৎচালিত।


তিনি জানান, জাপানে গত ১৬ মার্চ যাত্রীবাহী রেলকোচের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ২০২০ সালের ১৫ জুন প্রথম মেট্রো ট্রেন সেট বাংলাদেশে পৌঁছার কথা। ওই সময় থেকে পরবর্তী দু’মাসের মধ্যে ২৪ সেট রেলকোচ আসবে। একেকটি সেটে ছয়টি করে কোচ থাকবে। কোচগুলো বাংলাদেশে পৌঁছার পর পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে।


মেট্রোরেলে উভয়দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। সে হিসাবে দিনে যাতায়াত করতে পারবে ৫ লাখ যাত্রী। ট্রেনে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লাগবে ৪০ মিনিটেরও কম। মেট্রোরেলে ‘প্রিপেইড কার্ড’ দিয়ে ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করতে পারবে যাত্রীরা। আবার টিকেট কেটেও থাকবে ভ্রমণের সুযোগ।


প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মেট্রোরেলের কোচগুলো অত্যাধুনিক। প্রতিটি কোচ স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। প্রতি ট্রেনে থাকবে ছয়টি কোচ বা বগি। প্রতিটি ট্রেন ১ হাজার ৬৯৬ জন যাত্রী বহন করতে পারবে। এর মধ্যে ৯৪২ জন বসে এবং ৭৫৪ জন দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে। মেট্রোরেল কোচের উভয় পাশে রয়েছে চারটি দরজা। কোচে সিটের ধরন করা হয়েছে লম্বালম্বি এবং হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্য ট্রেনের কোচগুলোতে রয়েছে নির্ধারিত স্থান।


প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পিলার বসানোর কাজ শেষ। এখন চলছে এক পিলারের সঙ্গে অন্য পিলারের মধ্যে স্প্যান বা ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ। ৯ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হয়েছে। মাটির নিচের কাজ শেষ হওয়ার পর এখন ওপরের পূর্তকাজ চলছে দ্রুতগতিতে।


মেট্রোরেল প্রকল্পের কর্মীরা জানায়, কাজ দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলে। রাতে লাইট লাগিয়ে মেশিনের সাহায্যে সব কাজ করা হয়। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক জানান, মেট্রোরেলের কাজ শেষ হওয়ার পর নিচের রাস্তা ভালোভাবে চলাচল উপযোগী করে সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।


আরও পড়ুন