কারবালা থেকে কায়রো!

৬১ হিজরীর মহরম মাসের ১০ তারিখ কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর এজিদের কুফা গভর্নর ওবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ বাহিনীর হাতে ইমাম পরিবারের পুরুষ বলতে সবারই শাহাদাত ঘটে।

শাহাদতের পর ইবনে যিয়াদের নিষ্ঠুর সেনা নরপিশাচ সীমার ইবনে জিলজুশান মুরাদী নিজ হাতে ছুরি চালিয়ে মাহানবী সাইয়েদীনা মোহাম্মদ (সঃ) এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন ইবনে আলী (রা)র পবিত্র শরীর থেকে মস্তককে আলাদা করে, মস্তকসহ ইমাম পরিবারের মহিলা ও শিশুদের কুফায় ইবনে যিয়াদের নিকট প্রেরণ করে।

কুফা থেকে ইবনে যিয়াদ ঈমাম পরিবার ও হযরত হোসাইনের(রাঃ)র শির মোবারক দামেস্কে এজিদের নিকট প্রেরণ করে। এজিদ আহলে বায়েতের মহিলা ও শিশুগণকে মদীনা মুনাওয়ারায় প্রেরণ করে, হযরত ঈমাম হোসাইন (রা) এর শির মোবারক দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের মাঠে সমাহিত করেন।

পরবর্তী ঘটনা প্রবাহের পর ঈমামের হোসাইন (রাঃ)র শির মোবারক দামেস্ক থেকে কুফা ও বিভিন্ন জায়গায় প্রদক্ষিণের পর ভুমধ্যসাগরের তীরে ফিলিস্তিনের আস্কালান নামক জায়গায় দাফন করা হয়।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ মাকিরজি বলেন ঈমাম হোসাইন(রাঃ) মাথা মোবারক ফিলিস্তিনের আস্কালান থেকে ৮ জমাদিউল আখের ৫৪৮ হিজরীতে উত্তোলন করে সোনারুপা খচিত সবুজ রঙের একটি বাক্সে করে মিশরের কায়রোর উদ্যেশে রওনা হয়। দুইদিন পর মাথা মোবারক মিশরে পৌছানোর পর মিশরের তৎকালিন রাজা আমীর সাইফ সেই মাথা মোবারক গ্রহণ করেন।

তখন ঈমাম হোসাইন (রঃ) মাথা মোবারককে দেখার জন্য মিশরের লাখ লাখ মানুষ কায়রোতে ছুটে আসেন। অতঃপর ১০ জমাদিউল আখের ৫৪৮ হিজরিতে বিশ্বের প্রখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশালকার প্রধান মসজিদের পাশেই হযরত ঈমাম হোসাইন (রাঃ)র মস্তক মোবারক পুনঃসমাহিত করা হয় ও একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণ করা হয়।

যা, আজকের সাইয়েদীনা হোসাইন মসজিদ নামে পরিচিত।

সুত্র- তাসাউফের শায়খ জাকিউদ্দিন ইবরাহীম ” ﺭﺃﺱ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﺑﻤﺸﻬﺪﻩ ﺑﺎ ﺍﻟﻘﺎ ﻫﺮﻩ ﺗﺤﻘﻴﻘﺎ ﻣﺆﻗﺪﺍ ﺣﺎﺳﻤﺎ ” নামক কিতাব এবং মিসরের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতী ডঃ আলী জুমা লিখিত ﺍﻟﺒﻴﺎﻥ ﺍﻟﻘﺆﻳﻢ ” নামক কিতাব।


আরও পড়ুন