রোহিঙ্গা সমাবেশের মদতদাতা ও সহায়তাকারীরা চিহ্নিত

রোহিঙ্গা সংকটের ২ বছর পূর্তিতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ‘ক্যাম্প অভ্যন্তরে বিশাল সমাবেশ’ আয়োজনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদদাতা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে অভিযুক্ত ৬টি এনজিও সংস্থাকে ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসকের পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা সমাবেশের আয়োজক হিসেবে যেসব সংগঠনকে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো হলো- ভয়েস অব রোহিঙ্গা, রোহিঙ্গা রিফিউজি কমিটি (আরআরসি) এবং আরাকান  রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যানস্ রাইটস (এআরএসপিএইচ)। এর মধ্যে এআরএসপিএইচ সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশ প্রভাবশালী।

এ ছাড়া সমাবেশ আয়োজনে সহায়তাকারী হিসেবে চিহ্নিতদের মধ্যে রয়েছে কক্সবাজারের কয়েকটি এনজিও, আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ও কলেজ শিক্ষক, মানবাধিকার সংগঠক, আরআরআরসি কর্মকর্তা ও পুলিশসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। যারা রোহিঙ্গাদের সংগঠন এআরএসপিএইচ এর উপদেষ্টা ও কার্যকরি কমিটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের সমাবেশ আয়োজনের কয়েকদিন আগে কক্সবাজার শহরে আদ্রা ও মারকাজুল আল ইসলামী নামের দু’টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ’র গোপন বৈঠক হয়। এতে সমাবেশ আয়োজনে অর্থ সহায়তার পাশাপাশি গেঞ্জি ও ব্যানারসহ নানা উপকরণ সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। তবে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ আয়োজনে মদদদাতা ও সহায়তাকারিদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন।


আরও পড়ুন