কিশোরগঞ্জের খবর - বিশেষ প্রতিবেদন - সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

কিশোরগঞ্জে ঝুঁকিতে ৫৭ কিলোমিটার রেলপথ

কিশোরগঞ্জের ৫৭ কিলোমিটার রেললাইন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও রেলপথের প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় এ জেলার মানুষ উদ্বিঘ্ন। এখন স্থানীয় অনেকেই এ পথটুকু তাদের জন্য মৃত্যুফাঁদ বলে মনে করেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হয়ে ভৈরব পর্যন্ত প্রায় ৫৭ কিলোমিটার রেলপথের বেশিরভাগ জায়গায় ভেঙ্গে গেছে কাঠের স্লিপার। লাইনের বেশির ভাগ স্থানে নেই নাট-বোল্ট। হারিয়ে গেছে পিনও। আবার বিভিন্ন স্থানে হুক বোল্ড ও পর্যাপ্ত পাথর নেই। পুরাতন হওয়ায় মরিচা পরে ও কাঠ পচে রেললাইনের শতকরা ৩০টি ক্লিপই উঠে গেছে। কোথাও কোথাও দেখা গেছে স্লিপারের দুই পাশেই ক্লিপস নেই। এ অবস্থায় ট্রেন চলাচল করলেও যেকোনো মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।

এ রেলপথ দিয়ে প্রতিদিন ঢাকাগামী ৩টি আন্তঃনগর, চট্টগ্রামগামী ১টি আন্তঃনগর ও ১টি মেইল, ময়মনসিংহ থেকে ভৈরব পর্যন্ত বেশ কয়েকটি লোকাল এবং মালবাহী ট্রেন চলাচল করে।

চলতি বছরই রেলপথটিতে বেশ কয়েকবার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনায় বিপুল প্রাণহানি ঘটলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

শনিবার কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে কথা হয়, মোকছেদ আলী, মকবুল হোসেন, আলমাস শেখসহ অনেকের সাথে। তারা বলেন, নিরাপদ ভ্রমণের জন্য ছোটবেলা থেকে ট্রেনে যাতায়াত করি। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জ আসার পথে ভেতরে খুব ভয় কাজ করে। ট্রেন একটু জোরে চলাচল করলেই ট্রেনের ভেতরে প্রচন্ড ঝাকুনির সৃষ্টি হয়। এতে মনে হয় কোন উত্তাল সমুদ্রে আছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ অঞ্চলের রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিয়োজিত থাকলেও তারা নিয়মিত কাজ করছেন না। কখনই তাদেরকে রেললাইন সংস্কারে দেখা যায়নি। এমনি রেললাইনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তায় যাদের থাকার কথা তাদেরকেও পাওয়া যায়না। যার ফলে পাথর, হুক বোল্ড ও স্লিপারের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং রেললাইনটিও অনিরাপদ থেকে যাচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিছুজ্জামান রেললাইনের ঝুঁকির কথা স্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠকে বলেন, সংস্কারের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। যেখানে যেখানে সমস্যা রয়েছে তা আমরা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান দেয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি জানান, এ রেলপথটি বহু পুরাতন, যা এখনো এনালক পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় সারাদেশের রেলপথকেই নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। এ পথটিকেও সেভাবে তৈরি করা হলে রেললাইনে কোন প্রকার ঝুঁকি থাকবে না।


আরও পড়ুন