খেলার খবর - প্রচ্ছদ - সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

জিতলেই ফাইনালে বাংলাদেশ

সময়টা ভালো যাচ্ছে না। একের পর এক হারে বিপর্যস্ত টিম বাংলাদেশ। এই দুঃসময়ের মধ্যেও উকি দিচ্ছে সম্ভাবনা, চলমান ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা। আজ জিম্বাবুয়েকে হারালেই ২৪ সেপ্টেম্বরের ফাইনাল নাম উঠবে সাকিব আল হাসানের দলের। বিদায় নিশ্চিত হতে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার জিম্বাবুয়ের, তাতে ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাওয়া আসরের অপর দল আফগানিস্তানেরও। সবমিলিয়ে লিগপর্বের সব উত্তেজনা হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারে আজই।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম ম্যাচে আজ মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প পথ খোলা নেই জিম্বাবুয়ের সামনে। উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশকে বাগে পেয়েও হারাতে পারেনি তারা। ৬০ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জিতে গিয়েছিল তরুণ আফিফ হোসেন আর মোসাদ্দেক হোসেনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে।

পরের ম্যাচে জিম্বাবুয়ে হেরেছে আফগানিস্তানের কাছে। রশিদ খানের নেতৃত্বাধীন দলটির সামনে পাত্তা পায়নি বাংলাদেশও। তাতে টাইগার ক্রিকেটে গত কিছুদিন ধরে চলা দুঃসময় দীর্ঘায়িত হয়েছে আরও। আফগানদের কাছে হারার পর অধিনায়ক সাকিব আল হাসান তো বলেই দিয়েছেন, ক্রিটেকীয় এবং মানসিক স্কিলে ঘাটতি আছে স্বাগতিক শিবিরে। সেই ঘাটতি পূরণেই স্কোয়াডে বড়-সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যর্থতার বৃত্তে ঘোরপাক খাওয়া ওপেনার সৌম্য সরকারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যে কারণে একাদশে পরিবর্তন আসবে।

সৌম্যর জায়গায় স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে তরুণ ওপেনার নাঈম হাসানকে। শেষ মুহূর্তে টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনায় পরিবর্তন না এলে আজ লিটন দাসের সঙ্গে ইনিংসের সূচনা করবেন এই বাঁহাতিই। সেক্ষেত্রে আগের ম্যাচে উদ্বোধন করতে নামা মুশফিকুর রহিম ফিরে যাবেন চার নাম্বার পজিশনে। এ ছাড়া দলে আর কোনো পরিবর্তনের আভাস নেই। দলে ফেরা দুই পেসার রুবেল হোসেন আর শফিউল ইসলামকে আপাতত তাই দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে।

স্পিনে কিছুটা হলেও দুর্বল জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। সে কারণেই একাদশে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের টিকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দলের পেস আক্রমণ সামাল দেবেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আর মোস্তাফিজুর রহমান। আফগানদের বিপক্ষে দল হারলেও দুর্দান্ত বোলিং করেছেন সাইফউদ্দিন, ৩৩ রান খরচায় নিয়েছেন ৪ উইকেট। উইকেট না পেলেও মোস্তাফিজও খারাপ করেননি। অবশ্য পেস কিংবা স্পিন বোলিং বিভাগ নিয়ে তেমন কোনো দুশ্চিন্তা নেই টাইগার শিবিরে। দুশ্চিন্তার পুরোটাতেই ব্যাটিং। টপ অর্ডার ভালো করছে না, সিনিয়ররাও মেটাতে পারছেন না প্রত্যাশা।

আগের দুই ম্যাচেই প্রথম চার ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরেছেন দ্রুত, বাড়িয়েছে দলের বিপদ। অধিনায়ক সাকিব অনেকটাই অচেনা। মুশফিকও হারিয়ে ফেলেছেন ছন্দ। তবে আফগানদের বিপক্ষে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। টাইগারদের জন্য এটা স্বস্তির। সাকিব-মুশফিকরা ছন্দে ফিরলে চেনা বাংলাদেশকেই দেখা যাবে মাঠে। জিম্বাবুয়েও বিষয়টা জানে। শন উইলিয়ামস তাই বলে দিলেন, ‘ওদেরকে যদি বাউন্ডারি থেকে বিরত রাখা যায়, তাহলে চাপ সৃষ্টি হয়। আমি জানি ওরা শট খেলতে পছন্দ করে। জানি ওরা আমাদের বিপক্ষে আগ্রাসী হয়ে খেলতে চেষ্টা করবে। চ্যালেঞ্জটি তাই দুর্দান্ত হবে।’

সাকিব-মুশফিকদের দ্রুত ফেরানোর সঙ্গে ম্যাচে নিজেদের ঠিকঠাক করতে চায় জিম্বাবুয়ে। ম্যাচটাতে যে তাদের জন্য বাঁচা-মরার। সেই ম্যাচটাই বাংলাদেশকে দিচ্ছে ফাইনালের হাতছানি।


আরও পড়ুন