রাজনীতি - সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

জাতীয় পার্টির সুনির্দিষ্ট কোনো আদর্শ নেই : জি এম কাদের

দেশের কমিউনিস্ট পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো জাতীয় পার্টির সুনির্দিষ্ট আদর্শ নেই বল জানিয়ছেন দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের। 

তিনি বলেছেন, ‘অনেকে বলে জাতীয় পার্টির কোনো আদর্শ নেই, তারা সুবিধার রাজনীতি করে। তাদের বলতে চাই, আমরা কমিউনিস্ট পার্টি বা জামায়াতে ইসলামী নই। তাদের একটি নির্দিষ্ট আদর্শ আছে। কিন্তু যারা মধ্যমপন্থি দল; বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি; তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো আদর্শ থাকে না। আমরা কর্মসূচিবান্ধব দল। জনগণকে কল্যাণ ও সুশাসন দেব এটাই আমাদের আদর্শ। কীভাবে দেব জনগণের সামনে তা তুলে ধরব। এটাই আমাদের কর্মসূচি। সুশাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের উদ্দেশ্য।’

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্মরণে বাংলাদেশ জনতা লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

‘ক্ষমতা যেদিকে জাতীয় পার্টি সেদিকে’ এমন সমালোচনার জবাবে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাজনীতি মানে জনগণের সেবা করব ক্ষমতার সঙ্গে থেকে। হয় ক্ষমতা শেয়ার করব অথবা ক্ষমতার পাশাপাশি থেকে করব, নয়তো ক্ষমতা নিয়ে করব। ক্ষমতা ছাড়া রাজনীতি হয় না। ক্ষমতার জন্য সবাই রাজনীতি করে। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকার জন্য চেষ্টা করবে বা ক্ষমতার পাশাপাশি থেকে জনগণের ভালো করার চেষ্টা করবে। এই রাজনীতি আমরা যেমন করি, একই রাজনীতি আওয়ামী লীগ-বিএনপিও করে।’

আওয়ামী লীগে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে সংসদের বিরোধী দলীয় এই উপনেতা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলেন। এখন উনি এটার ব্যাপারে কিছু কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছেন। দেশবাসী কিন্তু ওনার দিকে তাকিয়ে আছে। সংসদে আমি বলেছিলাম, আপনি অত্যন্ত শক্তিশালী একজন নেতা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত শক্তিশালী নেতৃত্ব ইতিপূর্বে কোনো সময় হয় নাই। কাজেই উনি চাইলে অনেক সংস্কারমূলক বিপ্লব সাধন করতে পারেন। উনি শুরু করেছেন। আমরা আশা করছি, যে কাজ উনি শুরু করেছেন তা সঠিকভাবে শেষ করবেন। দেশ ও জাতি দুর্নীতিমুক্ত একটি সমাজ পাবে।’

জি এম কাদের প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নানা কৃতিত্বের কথা স্মরণ করেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এরশাদের স্বপ্ন ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

১৯৯০ সালে প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতন হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘৯০ এর পরে যেটাকে এরশাদের পতন বলা হয়, আমি মনে করি উনি স্থান পরিবর্তন করেছিলেন মাত্র। উনি ক্ষমতার গন্ডি থেকে বেরিয়ে জনগণের মাঝে চলে গিয়েছিলেন। এরপরে ২৭ বছর ধরে উনি জনগণের জন্য কাজ করেছেন এবং তাদের অন্তরে স্থান করে নিয়েছেন। জনগণের অন্তরে যে ওনার স্থান কতটুকু ছিল সেটা আমরাও জানতাম না। জেনেছি ওনার মৃত্যুর পর মানুষের আহাজারি আর জানাজায় অসংখ্য মানুষের উপস্থিতির মাধ্যমে।’

বাংলাদেশ জনতা লীগের চেয়ারম্যান শেখ ওসমান গণি বেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেসের সভাপতি শেখ শহিদুজ্জামান।


আরও পড়ুন