ঝালকাঠিতে হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদন্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

ঝালকাঠি সদর উপজেলার রাজাপাশা গ্রামের চাঞ্চল্যকর আনোয়ারা বেগম হত্যা মামলার দুই আসামীকে মৃত্যুদন্ড এবং অপর তিন আসামীকে যাবজ্জীবন স্বশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকেএম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের রাজপাশা গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে খায়রুল আলম ওরফে শেখ হাসান ওরফে মহুরী হাসান এবং একই গ্রামের মৃত জালাল সরদারের ছেলে পিল্টন ওরফে পিন্টু। যাবজ্জীবন স্বশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিতরা হলেন, একই গ্রামের আবুল হোসেনের দুই ছেলে রিপন মিয়া ও সালাম মিয়া এবং আব্দুস সোবাহানের ছেলে সাহাদাৎ হোসেন।

মামলার বিবরনে জানাযায়, ২০০২ সালের ১৭ মে রাতে ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের রাজপাশা গ্রামে আনোয়ারা বেগমের ছেলে লিটন সিকদারকে হত্যা ও তাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসে দন্ডিতরা। এসময় লিটন সিকদারের মা আনোয়ারা বেগম কুপি বাতি জ্বালিয়ে দিলে একই গ্রামের এ আসামীদের চেহারা চিনে ফেলেন তিনি।  এসময় ওই আসামীরা  মা আনোয়ারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পরদিন ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সদর থানায় শেখ হাসান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (সিআইডি) এর বিচক্ষণতায় আসল চিত্র ফুটে উঠে। পরে ২০০৩ সালের ১০ অক্টোবর শেখ হাসানসহ ৭ জনকে আসামী করে একাটি হত্যা মামলা দায়ের করে সিআইডির তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা। ২০০৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সিআইডি আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি ও ১৫ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর দোষী প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একই সাথে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামী গিয়াস ও মামুনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এম আলম খান কামাল এবং আসামী পক্ষে ছিলেন আব্দুর রশিদ শিকদার।


আরও পড়ুন