‘পাকিস্তান ৭১ এর ভুল আবার করলে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে’

ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের তীব্র উত্তেজনা চলছে। গত আগস্টের শুরু থেকে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে হুমকি দিয়ে আসছে পাকিস্তান।

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত সপ্তাহে বলেছেন, কাশ্মীরিদের লড়াইয়ে তার দেশের পূর্ণ সমর্থন আছে। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এই যুদ্ধ শুরু হলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের মাঝে সীমিত থাকবে না বলেও বিশ্ব নেতাদের সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তানের এমন হুমকির জবাব দিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। পাকিস্তানের নীতি-নির্ধারকদের সতর্ক করে দিয়ে ভারতের এই মন্ত্রী বলেছেন, পাকিস্তান যদি ১৯৬৫ এবং ১৯৭১ সালের ভুল আবার করার চেষ্টা করে, তাহলে পাকিস্তানকে টুকরো টুকরো হওয়া থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।

রোববার ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের পাটনায় বিজেপির ‘জন জাগরণ সভা’য় এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজনাথ। পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে রাজনাথ বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ যদি ফের একাত্তরের মতো ভুল করে, তাহলে দুনিয়ার কোনো দেশই তাকে ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না। বালোচ ও পস্তুনদের ওপর কী ধরনের নিপীড়ন চালানো হচ্ছে; সেবিষয়টি তাদের মনে রাখা উচিত।’

বিজেপি সমর্থকদের উদ্দেশ্য রাজনাথ বলেন, ‘সম্প্রতি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গিয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি দেশের মানুষের উদ্দেশ্য বলেন, পাক-ভারত সীমানার দিকে যাবেন না। খুবই ভালো পরামর্শ। কারণ একবার সীমান্তে এলে তারা আর ফিরে যেতে পারবে না।’

গত ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ দেশটির সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বাতিল হয়ে যায়। রাষ্ট্রপতির আদেশে এখন জম্মু-কাশ্মীর ভেঙে দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত হবে। কাশ্মীরের এই বিশেষ মর্যাদা বাতিলের আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশটির আধাসামরিক কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) অন্তত ৪৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়।

বন্ধ করে দেয়া হয় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ। কাশ্মীরিরা অভিযোগ করেছেন, ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের বাইরে থাকা অনেকেই এখন পর্যন্ত তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। যদিও দেশটির সরকার বলছে, রাজ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ আগের মতো সচল রয়েছে।

রাজনাথ বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা এক ধরনের ক্যান্সারের মতো। এতদিন ধরে এর মারাত্মক ফল ভোগ করেছিল রাজ্যের মানুষ।


আরও পড়ুন