কিশোরগঞ্জের খবর - বিশেষ প্রতিবেদন - সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯

প্রকাশ্যে বাণিজ্য মেলা নেপথ্যে জুয়ার আসর

কুলিয়ারচর উপজেলা সদরে অন্য উপজেলার নতুন কেউ প্রবেশ করলে মাইকের শব্দ শুনে মনে করতে পারেন সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনের প্রচার। একটু মনোযোগ দিলেই ধারণা পাল্টে যাবে। আসলে ভোটের প্রচার নয়, জুয়ার প্রচার।

নানা আকর্ষণীয় পুরস্কারের কথা বলে লটারির টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে, যা শহরবাসীর কাছে জুয়ার লটারি বলে পরিচিত। শুধু শহরেই নয়, জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পিকআপ এবং রিকশাভ্যানে ফেরি করে লটারির টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে প্রতিদিন। এর ক্রেতা দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ছাত্র, গৃহিণীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।

কুলিয়ারচর উপজেলা সদরের থানা ও প্রশাসনিক কমপ্লেক্সের অদূরে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে গড়ে উঠা কুটির শিল্প ও বাণিজ্য মেলাটি শুরু করা হয় গত ১৬ সেপ্টেম্বর।

এরপর ২২ সেপ্টেম্বর মেলা আয়োজন করে অসামাজিক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়ায় চিঠি দিয়ে মেলা বন্ধ করার নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন।

ডিসির নির্দেশের পরও সরানো হয়নি মেলার সরঞ্জাম

অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যা নামলেই মেলায় চলে লাখ লাখ টাকার হাউজি-জুয়াসহ নানা অবৈধ বাণিজ্য। মাঠ বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছে বিদ্যালয় দুটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মেলার জন্য মাঠে নামতে পারছে না কুলিয়ারচর বাজার আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেগম নূরুন্নাহার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এমনকি মেয়েদের স্কুলের একটি গেটে দোকান নির্মাণ করে গেটটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা এ অবৈধ মেলার সঙ্গে জড়িত থাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

বেগম নূরুন্নাহার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান বলেন, মেলার জন্য শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার তেমন ক্ষতি না হলেও বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে মেয়েদের নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। একটি গেট বন্ধ করে দেয়ায় মেয়েদের স্কুলে আসতে-যেতে সমস্যা হয়।

সোমবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের চিঠি পেয়ে সাময়িকভাবে মেলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। কিন্তু এখনো সরানো হয়নি মেলার সরঞ্জাম।

মেলার আয়োজকরা জানান, জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়েই গত ১৫ সেপ্টেম্বর মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে মাসব্যাপী কুটির শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের এমপি ও বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। হাউজি, সার্কাস ও বিভিন্ন রাইডসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৭০টি স্টল মেলায় অংশ নেয়।

মেলা পরিচালনা কমিটির ম্যানেজার মো. মকিন খাঁ বলেন, মেলা আয়োজনে এ পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। হঠাৎ বন্ধের চিঠি পাওয়ার পর মেলা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন করে অনুমতি নিয়ে মেলা চলবে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠকে জানান, কুলিয়ারচরে কুটির শিল্প ও বাণিজ্য মেলার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা করায় লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হওয়া এবং শিক্ষার্থীরা ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় মেলার অনুমোদন দেয়া হয়নি। এরপরও মেলা আয়োজন করে অসামাজিক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর ২২ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে মেলা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নির্দেশের পরও মেলা থেকে সরঞ্জাম সরানো না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরও পড়ুন