ফাইনালে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ-আফগানিস্তান

ফাইনাল বলে কথা, সেই ফাইনালের আগের দিন বাংলাদেশ দল তাই সকাল সকালেই অনুশীলনের জন্য হাজির মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। অনুশীলনের জন্য যখন মাঠে নামলেন সাকিব-মুশফিকরা, তখন তাদের বেশ ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেল। ঝকঝকে রোদে টাইগার শিবিরের প্রতিটি ক্রিকেটারের পদক্ষেপে থাকল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। টানা দুই ম্যাচ জিতে চট্টগ্রাম থেকেই ওই আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে এনেছে তারা। ফাইনালের মহড়ায় হারিয়েছে আফগানিস্তানকে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সেই আফগানিস্তানকে আজ ফাইনালেও হারানোর অপেক্ষায় টিম বাংলাদেশ।

অপেক্ষাটা আজ ঘুচে গেলে আরেকটি শিরোপা উঠবে টাইগারদের হাতে। বহুজাতিক কোনো টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত একবারই শিরোপার স্বাদ নিতে পেরেছে তারা। সেটাও খুব আগের স্মৃতি নয়, আয়ারল্যান্ডে চলতি বছরের মে মাসে। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নাস্তানাবুদ করে প্রথমবার শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। আসরটা ছিল ৫০ ওভারের ম্যাচের। এবার টি-টোয়েন্টিতে ওই সাফল্যগাঁথার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর হাতছানি সাকিব আল হাসানের দলের সামনে। একসঙ্গে দুটো প্রথমের হাতছানিও থাকছে টি-টোয়েন্টি আর ঘরের মাঠে প্রথম বহুজাতিক কোনো আসরের শিরোপা জয়।

এই দুটো প্রথমের স্বাদ আরও আগেই নেওয়া হয়ে যেত বাংলাদেশের, যদি ঘরের মাঠে ২০১৬ সালে এশিয়া কাপ এবং ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে বিজয়কেতন উড়াতে পারত টাইগাররা। কিন্তু দুটো ফাইনালেই তারা হেরে যায় ভারতের কাছে। তাই ক্রিকেটের ক্ষুদ্র সংস্করণে বহুজাতিক কোনো আসরের শিরোপাটা অধরাই থেকে গেছে। এবার সেই অপেক্ষাটা ঘুচানোর সুযোগ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারবে তো স্বাগতিকরা? প্রশ্নটা উঠছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাদের সাম্প্রতিক করুণ পারফরম্যান্সের কারণেই।

চার ম্যাচের তিনটিতে জিতে লিগপর্বের সেরা দল হয়েই চলমান ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। এরপরও পারফরম্যান্স নিয়ে শঙ্কা! কোনো ম্যাচেই যে একটি দল হয়ে পারফর্ম করতে পারেনি টাইগাররা। ব্যাটিংটা রীতিমতো নড়বড়ে, অধারাবাহিক। বোলিংয়েও প্রত্যাশিত ছন্দটা নেই। তিনটি ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমটিতে আফিফ হোসেন, দ্বিতীয়টিতে মাহমুদউল্লাহ আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাকিব ওভাবে তেতে না উঠলে ফাইনাল খেলার স্বপ্নটা আগেই জলাঞ্জলি দিতে হতো।

দলের পারফরম্যান্সে ঘাটতির এই চিত্রটা বেশ ভালোভাবেই অবলোকন করেছেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। ফাইনালপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলে গেলেন, ‘আমরা এখনও আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারিনি। এখনও বেশ কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে।’ কোচ আশাবাদী, ফাইনালে সেই উন্নতিটা দেখাতে পারবে তার শিষ্যরা। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে সমীহ করেও ডমিঙ্গো আস্থা রাখলেন টাইগারদের সামর্থ্য, ‘আমরা জানি আফগানিস্তান খুব ভালো দল। আমরা এটাও জানি যে, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে যেকোনো দলকেই হারাতে পারি আমরা।’

আফগান দলের সব থেকে বড় শক্তি স্পিন আক্রমণ। রশিদ খান, মুজিব উর রেহমান, মোহাম্মদ নবীরা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই হুমকি। কিছুটা স্পিনবান্ধব পিচ পেলেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন তারা। বিষয়টা মাথায় রেখে স্বাভাবিকভাবেই আজ মিরপুরে স্পিনবান্ধব উইকেটে খেলতে চাইবে না টাইগাররা। ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা নিতে টাইগারদের সেই চাওয়ার কথা ইতোমধ্যেই হয়তো কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার কাছে পৌঁছে গেছে। তাই যদি হয়, একজন বাড়তি পেসার নিয়েই মাঠে নামার কথা স্বাগতিকদের। ডানহাতি পেসার রুবেল হোসেনের একাদশে ফেরার অপেক্ষাটা তাই হয়তো ঘুচে যেতে পারে আজ।

অভিষেকেই তাক লাগিয়ে দেওয়া লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব চোটমুক্ত হতে পারেননি, ফাইনালের মহড়ার মতো আজকের ফাইনালেও তার খেলা হচ্ছে না। তার জায়গা নিয়ে চট্টগ্রামপর্বের শেষ ম্যাচে খেলা ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। আগের দুই ম্যাচেই নিজেকে প্রমাণে ব্যর্থ নাজমুল হোসেন শান্ত। তার জায়গায় ফাইনালে লিটন দাসের সঙ্গে ইনিংসের সূচনায় নাঈম শেখকে দেখা যেতে পারে। তরুণ নাঈম এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার স্বাদ পাননি। এমন একজন আনকোড়া খেলোয়াড়কে ফাইনালের মতো ম্যাচে নামিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি টিম ম্যানেজমেন্ট নেবে কি না, সেটা নিয়েও সংশয় আছে।

বাংলাদেশ শিবির সংশয়ে উদ্বোধনী জুটি আর ব্যাটিং অর্ডার কেমন হতে তা নিয়ে। অন্যদিকে আফগানিস্তান সংশয়ে অধিনায়ক রশিদের খেলা নিয়েই। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন আফগান বোলিংয়ের প্রধান সেনানি। এরপরও দলের সঙ্গে সোমবার এসেছিলেন মিরপুরে, হাজির হয়েছিলেন সংবাদ সম্মেলনেও। সেখানেই জানিয়েছেন নিজের খেলা নিয়ে নিজেই সংশয়ে থাকার কথা, ‘আমার বোলিং করাটা উচিত হবে না। তবে যখন দলের প্রয়োজন, তখন তো সেখানে থাকতেই হবে।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘যদি আমি ১০ ভাগও ফিট থাকি, তাহলেও খেলব। আমি দেশকে ভালোবাসি এবং দেশকে জেতাতে চাই।’

রশিদের এমন দেশপ্রেমকে সম্মান জানাতেই হয়। টাইগারভক্তরাও নিশ্চয় এই প্রত্যাশায় থাকবে রশিদের মতো দেশপ্রেমে মরিয়া হয়েই জয় তথা শিরোপার জন্য ঝাপাবে সাকিবের দল।


আরও পড়ুন