জাতীয় - রাজনীতি - সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯

এমপি শাওন ও সম্রাট দম্পতির ব্যাংক হিসাব জব্দ

ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও তাঁর স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বাংলাদেশে নুরুন্নবী চৌধুরী ও ইসমাইল হোসেন সম্রাটের ব্যাংক হিসাবে কী পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়েছে, তার হিসাব পাঁচ দিনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে তফশিলি ব্যাংকগুলোকে।

সোমবার এই দুই নেতা ও তাদের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। অবৈধ লেনদেন ও মানি লন্ডারিংয়ের বিষয় অনুসন্ধান করতে ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার নিজস্ব এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের ব্যাংক হিসাবে ৩০০ কোটি টাকার খোঁজ মিলেছে। এছাড়া তার স্ত্রী ও মাসহ স্বজনদের হিসাবও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত সব তথ্য পাঁচ দিনের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জানাতে বলা হয়েছে।

গত শুক্রবার নিকেতনের অফিস থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জি কে শামীমকে। তার অফিসে থাকা নগদ দেড় কোটি টাকা ও ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআরের কাগজ জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।

এর আগে বুধবার অবৈধ অস্ত্র ও ইয়াবা রাখার অপরাধে খালেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং মামলা করা হয়। এর মধ্যে মাদক ও অস্ত্র মামলায় সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া মামলার তদন্তভার দেয়া হয় মহানগর গোয়েন্দাকে (ডিবি)।

জানা গেছে, জি কে শামীম ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দিচ্ছে কি না তার সন্ধানে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। ইতোমধ্যে কর সার্কেল থেকে আয়কর নথি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইসিতে তলব করা হয়েছে।

এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর জি কে শামীমের কর ফাঁকির অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। আয়কর রিটার্নে ঘোষিত সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে প্রকৃত সম্পদের গরমিল রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া তার লাইফস্টাইলের সঙ্গে প্রকৃত জীবনযাপনে অসঙ্গতি রয়েছে। কর ফাঁকি দিতেই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে রিটার্নে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।


আরও পড়ুন