‘চীনকে মোকাবেলা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ কঠিনই হবে’

অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে গণচীন (পিপলস রিপাবলিক অব চায়না) প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে চীন। এসব অস্ত্রের মধ্যে হাইপারসনিক-গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার মোকাবেলা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ কঠিনই হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

কমিউনিস্ট পার্টি এক রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর মাও সেতুং গণচীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর থেকে দ্রুত উন্নয়ন ঘটে চীনের।

সামরিক প্যারেডে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, তার দেশে ‘শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে’ হাঁটবে। তবে সামরিক বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য প্রতিরক্ষা হিসেবে থাকবে।

চীনা সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই সামরিক প্যারেড দেশটির সবচেয়ে বড় বাৎসরিক রাজনৈতিক অনুষ্ঠান। এবারের প্যারেডে ১৫ হাজারেরও বেশি সেনা অংশ নিয়েছে।

তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটা বিশ্বের প্রতি বেইজিংয়ের বার্তা-চীনের সামরিক প্রতাপ দ্রুত বাড়ছে। কয়েক মাস ধরে হংকংয়ে বিক্ষোভ এবং অর্থনীতিতে ধীর গতি সত্ত্বেও থেমে নেই চীনা সামরিক বাহিনীর অগ্রযাত্রা।

যেসব সমরাস্ত্র মঙ্গলবার প্যারেডে প্রদর্শন করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ডংফেং-২১ডি নামের ‘ক্যারিয়ার কিলার’। এটি এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার আওতায় থাকা যুদ্ধজাহাজকে ধ্বংস করতে সক্ষম। ডিএফ-২৬ মধ্যমপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যেটি প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়া ডিএফ-১৭ নামে যে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, যার মোকাবেলা করা দুরহ।

নিহন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নজমু ইয়োশিতমি জানিয়েছেন, ডিএফ-১৭ যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আরো বেশি স্পর্শকাতর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারি তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের জন্য এটি ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।’


আরও পড়ুন