কুলিয়ারচরে পুলিশের উপস্থিতিতে নবম শ্রেণীর ছাত্রীর বাল্যবিয়ে

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের উপস্থিতিতে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী গত শুক্রবার (৪ অক্টোবর) বাদ জু’মা উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের নাজিরদিঘী গ্রামের ঈশাদ মিয়ার ছেলে মুছার সাথে উপজেলার পৌরশহরের
দোয়ারিয়া মহল্লার মোঃ মনোয়ার আলীর মেয়ে কুলিয়ারচর বেগম নূরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়–য়া নবম শ্রেণীর ছাত্রী মাইমুনা আক্তার শান্তার বিবাহের দিন ধার্য্য করা হয়। বাল্যবিবাহ দিতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখিন হয়ে ছাত্রীর বাবা নিজ বাড়ীতে বিয়ের প্রস্তুতি না নিয়ে ছাত্রীর নানা উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মোঃ লায়েছ মিয়ার বাড়ীতে নিয়ে বিবাহের সকল প্রস্তুতি নেয় ছাত্রীর পরিবার।

সংবাদ পেয়ে শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ওই বাড়ীতে সরেজমিনে গিয়ে দেখেন ওই ছাত্রীর বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী তার নাম মায়মুনা আক্তার শান্তা, বাবার নাম মোঃ মনোয়ার আলী, মাতার নাম মোছাঃ কোহিনুর বেগম, জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারী ২০০৩ ইং (প্রায় ১৬ বছর)। কিন্তু ছাত্রীর পরিবার ছাত্রীর নাম সহ পিতা- মাতার নাম আংশিক পরিবর্তন করে জন্ম তারিখে বয়স বাড়ীয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জালিয়াতি করে অপর একটি জন্মনিবন্ধন তৈরী করে ওই ছাত্রীকে বিবাহ দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এ সময় সাংবাদিকরা মেয়ের পরিবারকে বাল্য বিবাহ না দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

সংবাদ পেয়ে এর এক ঘন্টা পর বাল্য বিবাহ বন্ধ করার জন্য কুলিয়ারচর থানার এসআই মোঃ নাছির উদ্দিন ফোর্স নিয়ে ছাত্রীর নানার বাড়ীতে গিয়ে বিয়ে বন্ধ না করে বিয়ে দেওয়ার অনুমতি দেন। পুলিশের উপস্থিতে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়রা ধারনা করছেন মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে পুলিশ বাল্যবিবাহ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন উছমানপুর ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্টার কবির আহম্মেদ।

সাংবাদিকগণ বিষয়টি কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউসার আজিজকে অবহিত করলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে এসআই মোঃ নাসির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উৎকোচ নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, বিয়ে বন্ধ করতে লায়েছ মিয়ার বাড়ীতে গেলে মেয়ে পক্ষ মোছাঃ শান্তা নামে একটি জন্ম নিবন্ধন উপস্থাপন করে। ওই জন্ম নিবন্ধনে মেয়ের বয়স ১৮ বছরের উপরে লিখা থাকায় ওসি স্যারের সাথে পরামর্শ করে বিয়ে বন্ধ না করে চলে আসি।

উসমানপুর ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্টার কবির আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই ছাত্রীর বিবাহ পড়ানোর কথা স্বীকার করে বলেন, আমি মোছাঃ শান্তা নামের একটি জন্মনিবন্ধনে মেয়ের বয়স ১৮ বছরের উপরে লিখা পেয়ে আমি বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউসার আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখনতো বাল্য বিবাহ হয়েই গেছে, এখন কি করার আছে?


আরও পড়ুন