চিরিরবন্দরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গৃহবধূর শ্লীলতাহানী, কোর্টে মামলা

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক গৃহবধূর শ্লীলতাহানীর ঘটনায় কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত চলছে। দীর্ঘদিন হলেও মামলার কার্যক্রম থেমে থাকায় ও আসামীদের অব্যাহত হুমকীর ফলে বাদী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, চিরিরবন্দর উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের খামার সাতনালা গ্রামের জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ১ সন্তানের জননী লুৎফা বেগম (৩০) কে ওই ইউনিয়নের মৃত ফেরাজউদ্দিনের ছেলে ইউপি চেয়ারম্যান একে এম ফজলুর রহমান দুলাল (৫০) দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকার কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। চেয়ারম্যানের দেয়া কু-প্রস্তাবের কারণে লুৎফা বেগম দীর্ঘ ১ বছর ধরে বাড়ির বাইরে চলাফেরা করতে পারছিলেন না। লুৎফা বেগম চেয়ারম্যানের দেয়া কু-প্রস্তাবের কথা তার স্বামী জাহিদুল ইসলামকে জানায়। জাহিদুল ইসলাম তার স্ত্রীকে দেয়া চেয়ারম্যানকে কু-প্রস্তাবের কথা বলেন এবং আর যাতে এমন ঘটনা না ঘটে তার জন্য নিষেধ করেন।

এর একপর্যায়ে গত ৭ই আগস্ট বুধবার রাত ৮টায় লুৎফা বেগমের স্বামী স্থানীয় বাজারে থাকার সুযোগে ফজলুর রহমান তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে লুৎফা বেগমকে একাকী পেয়ে বিভিন্ন প্রকার অশালীন কথা-বার্তা ও অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। এক পর্যায়ে ফজলুর রহমান লুৎফা বেগমের হাত ধরে শয়ন কক্ষে নিয়ে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করে। ফজলুর রহমান তার যৌন কামনা পূরণের চেষ্টা করতে থাকলে লুৎফা বেগম চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে।

এসময় বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ফজলুর রহমানের সহযোগি মোকলেছুর রহমান (৪৮) ঘটনাস্থলে এসে লুৎফা বেগমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চড়-থাপ্পড় ও কিল- ঘুষি মারে। এসময় তারা লুৎফা বেগমকে ঘটনা কাউকে জানালে বা কোথাও কোন অভিযোগ করলে জীবননাশ এবং লাশ গুম করার হুমকি প্রদর্শন করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ ঘটনায় লুৎফা বেগম চিরিরবন্দর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে কোর্টে মামলা করার পরামর্শ প্রদান করেন। গত ২৯ শে আগস্ট লুৎফা বেগম বাদী হয়ে দিনাজপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩) এর ১০/৩০ তৎসহ দঃ বিঃ আইনের ৩২৩/৫০৬ ( রর ) একে এম ফজলুর রহমান দুলাল এবং মো. মোকলেছুর রহমানকে আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

চিরিরবন্দর থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ আতিকুজ্জামান বলেন, মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অপরদিকে বাদি লুৎফা বেগম, তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন আসামীরা মামলা তুলে নেয়াসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। ফলে বাদি ভয়-ভীতির মধ্যদিয়ে কালাতিপাত করছেন।


আরও পড়ুন