ক্যাম্পাস - জাতীয় - প্রচ্ছদ - অক্টোবর ১১, ২০১৯

বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধ, ১৯ আসামি বহিষ্কার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েটে) সব ধরনের সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। নিজ ক্ষমতাবলে ভিসি এই শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে এই ঘোষণা দেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপে বসেন। সংলাপে ভিসি এই ঘোষণা দেন।

এছাড়া আবরার হত্যাকাণ্ডের এজাহারভুক্ত ১৯ আসামিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। এছাড়া আবরার হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলার যাবতীয় খরচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহন করা হবে বলে বুয়েটের ভিসি ঘোষণা দেন।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ৫টায় সময় বুয়েট অডিটোরিয়ামে এই সংলাপ শুরু হয়। আবরারের খুনিদের ফাঁসিসহ শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবি নিয়ে শুধু বুয়েটের বর্তমান শিক্ষার্থীদের (১৫ তম, ১৬ তম, ১৭ তম ও ১৮ তম ব্যাচ) উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন।বিজ্ঞাপন

প্রথমে গণমাধ্যমের সামনে আলোচনা করতে রাজি না হলেও অনেক আলোচনা ও আন্দোলনের পর গণমাধ্যমের সামনে আলোচনা করতে রাজি হন উপাচার্য। তবে, আলোচনা সভা সরাসরি সম্প্রচার না করার শর্ত জুড়ে দেন উপাচার্য।

উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করতে বুয়েটের বর্তমান শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া বহিরাগত ও অন্যদের প্রবেশ রুখতে বুয়েট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের গেইটে বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে তালা দেয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখে প্রবেশ নিশ্চিত করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত কয়েকদিন ধরে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করেও আলোচনা করতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। তবে, উপাচার্য গণমাধ্যম ছাড়া শিক্ষার্থীদের পক্ষে কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করতে রাজি হলেও শিক্ষার্থী রাজি হননি।

পরে গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সামনে সকল বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে আলোচনা করার জন্য শুক্রবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। অনেক আলোচনার পর আজ বিকেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের শর্ত মোতাবেক আলোচনায় বসেছেন উপাচার্য। তাই, উপাচার্যকে সম্মান প্রদর্শনার্থে শিক্ষার্থীরা তাদের আল্টিমেটাম বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়ায়।

প্রসঙ্গত, আবরার হত্যার দ্বিতীয় দিন গত ০৮ অক্টোবর উপাচার্য তার কার্যালয়ে এসে ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই চলে যেতে চাইলে তাকে কয়েক ঘণ্টা তাকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। তবে মাঝে একবার বেরিয়ে এসেও শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ না করায় এবং শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করতে না পারায় পুনরায় তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল শিক্ষার্থীরা।


আরও পড়ুন