আইন আদালত - রাজনীতি - অক্টোবর ১৩, ২০১৯

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ গ্রেফতার

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমকে আটক করেছে র‌্যাব। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকায় ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানান বিএনপির এই নেতার ঘনিষ্ঠজনেরা। পরে তাকে পল্লবী থানায় হস্তান্তর করা হয়।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) প্রধান কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ইসহাক মিয়ানকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ওই মামলার সূত্র ধরেই মেজর হাফিজ উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ইসহাক মিয়ানের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসী শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন পল্লবী থানার এসআই নূরে আলম। রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে র‌্যাব-৪ এর এসআই মো. আবু সাঈদ বাদী হয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ইসহাক মিয়ানকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক আহমেদ (ডিসি) আমাদের সময়কে বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজরকে র‌্যাবের একটি দল পল্লবী থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব। তিনি বিএনপির মেজর হাফিজ কিনা বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে পল্লবী থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা (এসআই) বাদল মিয়া নিশ্চিত করেছেন তাদের থানায় বিএনপি নেতা মেজর হাফিজ আটক রয়েছেন।

মেজর হাফিজকে আটকের তথ্য তুলে ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে সাবেক এই মন্ত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।

কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ইসহাক মিয়ানের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি তার ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করে ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাব, পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার ভূমিকা সম্পর্কে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক তথ্য প্রচার করেছেন। যা রাষ্ট্রের সার্বোভৌমত্বের জন্য হুমকি। এতে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। তার এমন হীন কার্যকলাপের সঙ্গে আরও কারা জড়িত তা বের করার লক্ষে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত জরুরি।

রাষ্ট্রপক্ষে সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মো. শওকত আকবর আসামির রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামি রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত। তার সঙ্গে সহযোগীদের বের করতে আসামির রিমান্ড প্রয়োজন।


আরও পড়ুন