কিশোরগঞ্জের খবর - জাতীয় - প্রচ্ছদ - অক্টোবর ১৪, ২০১৯

হাওরের শিক্ষার মান নিয়ে সন্তুষ্ট নন রাষ্ট্রপতি

হাওরের শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ্টি প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, এক সময় হাওরের থানাগুলোতে স্কুল-কলেজ ছিল না। এখন হাওরের তিন উপজেলায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও শিক্ষার মান তেমন বাড়ছে না। এখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে কেউ বিসিএসে টিকতে পারছে না। এ বিষয়ে তিনি পাঠদানে শিক্ষকদের আরো আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

হাওরে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, হাওরকে এখন সাজানো হচ্ছে, আরো সাজানো হবে, আরো গোছানো হবে, তখন বিদেশি পর্যটকরা আসবে এই হাওরে। সেজন্য হাওরের সৌন্দর্য যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। কোন রাখব বোয়ালকে হাওরের জমি কিনতে দেয়া হবে না।

মদ, জুয়া, চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, আমি শুনেছি ইটনা মিঠামইন অষ্টগ্রামে ইয়াবা ঢুকে গেছে। সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন এর বিস্তার আর না ঘটে। তা না হলে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।

হাওরের অষ্টগ্রাম থেকে মিঠামইন হয়ে ইটনা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ অল অয়েদার রোড (‘আবুরা’ বা উঁচু রাস্তা) করার সময় অধিগ্রহণ করা জমির মালিকরা এখনো ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি সমাবেশে বলেন, অধিগ্রহণের সময় জমির বাজার মূল্য থেকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে দেড়গুণ দাম দেওয়ার নিয়ম ছিল।

এখন সেই ক্ষতিপূরণ বাবদ তিনগুণ মূল্য পরিশোধ করা হয়। সে কারণে হাওরের মানুষ যেন তাদের অধিগ্রহণ করা জমির মূল্য বেশি পায় তা ভেবে দেরিতে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করার ব্যবস্থা করেছি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, অষ্টগ্রাম থেকে বাঙ্গালপাড়ার রাস্তা করা হয়েছে। নোয়াগাঁও থেকে চাতলপাড় ব্রিজ হলেই হাওরবাসী খুব সহজেই সড়কপথে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে পারবে। তবে নদীর ওপর ব্রিজ করার জন্য আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডার ইত্যাদির জন্য সময় লাগবে। আপাতত ফেরি দিলেই মানুষ চলাচল করতে পারবে।

রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে চলেছে, এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে হাওরে একদিন ফ্লাইওভার হবে। তিনি সকলকে অল অয়েদার রোড ও বিভিন্ন বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাওরের পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না। অল অয়েদার রোড ঘেঁষে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা করা যাবে না। হাওরে অপরিকল্পিতভাবে গ্রাম সৃজন করা যাবে না। বাইরের কোনো বড় কোম্পানি যেন হাওরে জায়গাজমি কিনতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক হায়দারি, অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মুজতাবা আরিফ খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হকসহ সামরিক, বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুরে রাষ্ট্রপতি ইটনার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি ইটনা থেকে অষ্টগ্রাম উপজেলায় যান। বিকেলে সুধী সমাবেশে যোগদান করেন। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অডিটোরিয়ামে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় তিনি রাত্রিযাপন করবেন।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় অষ্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন শেষে দুপুরে হেলিকপ্টারে করে বঙ্গভবনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন রাষ্ট্রপতি।


আরও পড়ুন