কিশোরগঞ্জের খবর - অক্টোবর ১৭, ২০১৯

মামলার নথি দেখায় আইনজীবীর হাতে হ্যান্ডকাফ!

এজলাস ভাংচুর, বিক্ষোভ, বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা

কিশোরগঞ্জে আদালতে দাঁড়িয়ে একটি মামলার নথি দেখার অপরাধে বিচারকের নির্দেশে আইনজীবীর হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জজকোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আইনজীবীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ওই বিচারকের অপসারণ দাবি করে স্লোগান দিতে থাকলে মীর ইকবাল হোসেন বিপ্লব নামের ওই আইনজীবীকে হাতকড়া মুক্ত করে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ সময় কতিপয় বিক্ষুব্ধ আইনজীবী এজলাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় বলে আদালতে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনার পর থেকে আদালতপাড়া অশান্ত হয়ে উঠলে জজকোর্টের বিচার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আদালত চলাকালীন সিনিয়র আইনজীবী মো. ইকবাল হোসেন বিপ্লব একটি মামলার নথি দেখার জন্য বেঞ্চ সহকারীকে বললে মামলার নথিটি আইনজীবী বিপ্লবকে প্রদান করেন। তিনি মামলার নথিটি নিয়ে আদালতের দরজায় নথিটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাকালীন মামলার ডাক পড়ে। এমতাবস্থায় ওই আইনজীবী নথিটি বেঞ্চ সহকারীর নিকট হস্তান্তরের পর বেঞ্চ সহকারী মামলার নথিটি যথারীতি ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. সোলাইমানের নিকট উপস্থাপন করেন।

এ সময় বিচারক আইনজীবী বিপ্লবের নিকট জানতে চান মামলার নথি নিয়ে তিনি কোথায় গিয়েছিলেন। জবাবে ওই আইনজীবী নথিটি দেখার জন্য বেঞ্চ সহকারী নিকট থেকে চেয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানানোর পরও বিচারক আইনজীবী বিপ্লবকে মামলার নথি চোর আখ্যা দিয়ে পুলিশকে তাকে আটকের নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে পুলিশ আইনজীবী বিপ্লবকে তাৎক্ষণিক আটক করে তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখেন।

এ ঘটনার পরপরই জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মো. শহীদুল আলম সহিদসহ উপস্থিত বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী-আইনজীবী বিপ্লবকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করলেও বিচারক তাদের অনুরোধ রাখেননি। এ খবর আদালত পাড়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা সব আদালত বর্জন করে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌসের নেতৃত্বে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারকের এজলাসে ছুটে গিয়ে আইনজীবী বিপ্লবকে ছাড়িয়ে নেন। এ সময় উত্তেজিত আইনজীবীরা এজলাসে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং বিচারক মো. সোলায়মানকে আধা ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছুটে গিয়ে আদালতের সকল পর্যায়ের কার্যক্রম বন্ধ করে ওই বিচারককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

এদিকে আইনজীবী সমিতির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওই বিচারকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানহানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে সিনিয়র আইনজীবী মীর মো. ইকবাল হোসেন বিপ্লব বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়া মো. ফেরদৌস মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠকে জানান, ১নং আমল গ্রহণকারী আদালতে অ্যাডভোকেট মীর মো. ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

তিনি আরও জানান, জরুরি সাধারণ সভায় সংশ্লিষ্ট বিচারককে বিচারকার্য থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। আইনজীবীরা ওই বিচারকের বিচারকাজে আর অংশ না নেয়া এবং তাকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে তিনি জানান।

গত বছরও ওই বিচারকের অসদাচরণের প্রতিবাদে আইনজীবীরা তার আদালত বর্জন করলে তিনি ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পান বলেও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন। অথচ ক্ষমা চাওয়ার পরও তিনি সেটা রক্ষা করতে পারেননি।

বিচারক মো. সোলায়মানকে প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বৃহস্পতিবার থেকে আইনজীবীরা তার আদালত বর্জন করবেন বলে জানা গেছে।


আরও পড়ুন