‘আবরার ফাহাদ’ বড় হবে ছোটমণি নিবাসে

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ধানক্ষেত থেকে কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতককে ‘ছোটমণি নিবাস’ নামে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ওবায়দা খানম শিশুটিকে আজিমপুরের ‘ছোটমণি নিবাস’ এ পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেন। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর বিকেলে শিশুটিকে সেখানে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়কের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড এর প্রধান মো. তারেক মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠকে জানান, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর রোববার শিশুটিকে ‘ছোটমণি নিবাস’ এ পাঠানো হয়েছে। শিশুটির পরিচর্যা ও ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেয়ার জন্য তারা ১১টি লিখিত আবেদন পেয়েছিলেন।

গত মঙ্গলবার তাড়াইল উপজেলার পুরুরা গ্রামের উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ধান ক্ষেত থেকে এই নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, জন্মেও পর পরই শিশুটিকে তার মা ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে যান।

মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে পুরুরা গ্রামের সুফিয়া খাতুন নামের এক নারী কাজ করতে গিয়ে বাড়ির পাশে এক শিশুর কান্না শুনতে পান। আঁচ করতে পারেন বাড়ির পাশে দূরের ধান ক্ষেত থেকে কান্নার শব্দটি আসছে। এগিয়ে যান তিনি। সামনের উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ধান ক্ষেতে নেমে দেখেন শিশুটি কাদা-পানিতে পড়ে আছে। হাত-পা নাড়াচ্ছে। কাঁদছে।

ধান ক্ষেতে মানব শিশুকে পড়ে থাকতে দেখে সুফিয়া খাতুনের চোখ ছল ছল করে ওঠে। পরম মমতায় তিনি শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শিশুটির সেবা-শুশ্রুষা করতে থাকেন।

ধান ক্ষেতে নবজাতক পাওয়ার খবরে এরপর এলাকার শত শত মানুষ সুফিয়া খাতুনের বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন।

তাড়াইল থানার পুলিশ খবর পেয়ে শিশুটিকে তাদের নিজের জিম্মায় নিয়ে আসেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখেন।

তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তখন ভর্তি রেজিস্টারে শিশুটির নাম লেখা হয় বুয়েটে নিহত ছাত্রের নামানুসারে ‘আবরার ফাহাদ’।

শিশুটিকে পাওয়ার পর থেকে অনেকেই দত্তক নেয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। সুন্দর চেহারার এই শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন্য দুই শতাধিক দম্পতি প্রশাসনের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠকে জানান, উদ্ধারের সময় শিশুটির বয়স একদিন বা দেড়দিন ছিল। শিশুটিকে তাদের তাড়াইল হাসপাতালের পরিচর্যায় রাখা হয়েছিল। শিশুটির কোনো স্বজন না থাকলেও উদ্ধারকারী নারী সুফিয়া খাতুন পরিচর্যার পাশাপাশি শিশুটির প্রতি সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখেন। চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের পরম মমতা ও ভালোবাসায় শিশুটি এখন প্রাণোচ্ছল। তার কচি মুখে ফুটেছে হাসি।


আরও পড়ুন