ঝিনাইদহে মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেপ্তার ২

ঝিনাইদহের সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মিয়া এবং একই এলাকার শাহেব আলীকে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে উপজেলার নারায়ণপুর ত্রিমোহনী থেকে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করে।

সাগান্না ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, দুপুরের দিকে সাদা পোশাকের একদল লোক আব্দুর রশিদকে আটক করে নিয়ে যায়। তবে কী অপরাধে নিয়ে গেছে সেটি জানেন না।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুয়ায়ী আব্দুর রশিদ ও শাহেব আলীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ সদর উপজেলার কোলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আশির উদ্দীন তার এলাকার ছয় রাজাকারের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম‌্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলা প্রাথমিক অনুসন্ধান করে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপে সেই সময় মামলাটি আপসরফা করতে বাধ্য হন আশির উদ্দীন।

আশির উদ্দীনের মৃত্যুর পর তার ভাতিজা আনোয়ার হোসেন মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন বলে তাদের পারিবারিক সূত্রে বলা হয়েছে। ৯/১০ মাস আগে ট্রাইব্যুনাল থেকে তদন্তে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িঘর জালিয়ে দেয়া ও স্বজনদের হত্যার প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, দেশ স্বাধীনের পর আইডিএল, জামায়াতে ইসলামী, চরমপন্থি সংগঠন হক গ্রুপ, সর্বহারা ও সর্বশেষ আওয়ামী লীগে যোগ দেন রাজাকার আব্দুর রশিদ।

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের প্রশ্রয়ে রাতারাতি নৌকা প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করেন আব্দুর রশিদ এবং বিপুল ভোটে জয়ী হন। তার দুই ছেলে হারুন অর রশিদ ও বজলুর রশিদ যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

গ্রেপ্তার শাহেব আলীর বাড়ি সদর উপজেলার কোলা গ্রামে। তার বাবার নাম অমোদ মালিথা। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে আব্দুর রশিদের বড় ছেলে হারুন জানান, কে বা করা তার বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে, তা বলতে পারছেন না। ঝিনাইদহের কোথাও বাবার সন্ধান পাননি।


আরও পড়ুন