কৃষক লীগ নেতা হত্যায় একজনের ফাঁসি, ৬ জনের যাবজ্জীবন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কৃষক লীগের ওয়ার্ড সভাপতি মতিউর রহমান (৬০) হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর পাঁচ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের ১ নম্বর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ ওরফে খোকন জেলার কটিয়াদী উপজেলার করগাও ইউনিয়নের পাচলীপাড়া গ্রামের তৈয়বুর রহমানের ছেলে। এ ছাড়া তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খোকনের বাবা তৈয়বুর রহমান, দুই ভাই সম্রাট ও রোমান, একই এলাকার আশ্রাব আলী, মজিবুর রহমান ও আরব আলী। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, মতিউর রহমানের ভাগ্নে দেওয়ান মিয়াকে রেলওয়ের টিটি পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তৈয়বুর রহমান ৪০ হাজার টাকা নেন। দীর্ঘদিনেও চাকরি দিতে না পারায় এ নিয়ে শালিশও হয়। শালিশে টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু টাকা না দিয়ে তৈয়বুর রহমান তালবাহানা করতে থাকেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে ২০১১ সালের ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পাচলীপাড়া গ্রামে কৃষক লীগের ওয়ার্ড সভাপতি মতিউর রহমানকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে গুরুতর অবস্থায় বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন মতিউরের ছেলে মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে কটিয়াদী থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে একই বছরের ২১ অক্টোবর ১২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি আবু সাঈদ ইমাম ও আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট অশোক সরকার মামলাটি পরিচালনা করেন।


আরও পড়ুন