জামায়াত নেতা আজহারের আপিলের রায় আগামীকাল

মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের আপিলের রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই রায় ঘোষণা করবেন।

বুধবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত আগামী কালের কার্যতালিকায় আজহারের মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য এক নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ জুলাই আজহারের আপিল মামলাটির উভয়পক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান রাখেন।

আদালতে আজহারের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

শুনানিতে আজহারের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দিতে আদালতের কাছে তাদের যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।

অপরদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল জামায়াত নেতা আজহারের অপরাধ বিবেচনা করে তাকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার আর্জি জানান।

গত ১৮ জুন আপিল দায়ের করার সাড়ে চার বছর পর জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের আপিল শুনানি শুরু হয়।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরধ ট্রাইব্যুনাল-১ একাত্তরে রংপুর জেলা আলবদর বাহিনীর কমান্ডার এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

প্রসিকিউশনের আনা নয় ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পাঁচটি এবং পরিকল্পনা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) প্রমাণিত হয় তার বিরুদ্ধে।

এর মধ্যে রংপুর অঞ্চলে অন্তত ১৪০০ লোককে গণহত্যা এবং আলাদাভাবে বেছে বেছে ১৪ জনকে হত‌্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে।

এ ছাড়া ওই অঞ্চলের অস‌ংখ‌্য নারীকে রংপুর টাউন হলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্রে পাঠানোর অভিযোগে একাত্তরের এই আল বদর কমান্ডারকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপহরণ ও আটকে রেখে নির্যাতনের আরেকটি ঘটনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় তাকে।

ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি খালাস চেয়ে আপিল করেন জামায়াতে ইসলামীর এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।


আরও পড়ুন