কক্সবাজারে বিকাশে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক আটক

রেড ক্রিসেন্ট থেকে ত্রাণ দেয়ার কথা বলে কক্সবাজারের উখিয়ার দুই ভাইস চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ নুর মানিককে (৩৪) আটক করেছে ডিবি পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজার পৌরসভার হলিডে মোড় থেকে তাকে আটক করা হয়ে বলে জানান ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া।

আটক মোহাম্মদ নুর মানিক কক্সবাজারের চকরিয়ার চিরিঙ্গা ইউনিয়রে চরনদ্বীপের মৃত আবদুল করিমের ছেলে ও পালাকাটা মাইজঘাট বাজারের নূর ইলেকট্রিকের মালিক।

কক্সবাজার ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তা পরিচয়ে মোহাম্মদ নুর মানিক পৃথকভাবে উখিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন নেছা বেবীকে ফোন দেন। তাদের বলা হয়, উখিয়া উপজেলার হতদরিদ্র মানুষের জন্য রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের নামে ২০০ প্যাকেট এবং বেবীর জন্য ১৫০ প্যাকেট ত্রাণ বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতিটি প্যাকেটের পরিবহন খরচ বাবদ ৭০০ টাকা করে বিকাশে প্রদান করতে হবে।

হতদরিদ্রদের জন্য ত্রাণ বরাদ্দের কথা শুনে ফোন করা ব্যক্তির দেয়া বিকাশ নম্বরে ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর এক লাখ ৪০ হাজার টাকা আর কামরুন নেছা বেবি দেন এক লাখ টাকা। দুই ভাইস চেয়ারম্যানের কাছ থেকে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা পাওয়ার পর থেকে ওই প্রতারকের সব ফোন নম্বর বন্ধ পেয়ে দুই ভাইস চেয়ারম্যানের সন্দেহ হয়। এতে দুইজনই বোকা বনে যান।

তিনি আরও বলেন, পরে বিষয়টি নিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর ও কামরুন নেছা বেবী উখিয়া থানায় আলাদাভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। এজাহার পেয়ে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও প্রতারককে আটক করতে জেলা ডিবি পুলিশের সহযোগিতা চান উখিয়া থানার ওসি। আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি সহকর্মী মাসুম খানকে সঙ্গে নিয়ে বিকাশ জালিয়াতির ওই সদস্যকে ধরতে ফাঁদ পাতেন। তাকে ধরতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। সেই প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বিকেলে কৌশলে অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার হলিডের মোড় থেকে নুর মানিককে আটক করা হয়। তার সঙ্গে আরও কারা জড়িত আছে তা বের করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।


আরও পড়ুন