জাতীয় - প্রচ্ছদ - নভেম্বর ১১, ২০১৯

বুলবুল তাণ্ডব : বিদ্যুৎহীন ৫০ লাখ গ্রাহক

ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলের ২১ জেলার প্রায় ৯৫ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে সব লাইন সচল করা হবে।

সোমবার বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এসব তথ্য জানিয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন বলেন, ৯৫ হাজার কিলোমিটার বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়েছিল। গতকাল রাত নাগাদ ২৫ শতাংশ লাইন চালু করা গেছে। আমরা সবাই মাঠে আছি। আশা করছি আজ রাতের মধ্যেই ৯০ শতাংশ লাইন চালু হয়ে যাবে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে এ পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে খুলনায় ২ জন, বাগেরহাটে ২ জন, বরগুনায় ২ জন, পটুয়াখালী ১ জন, পিরোজপুরে ১ জন, মাদারীপুরে ১ জন, ভোলায় ১ জন, সাতক্ষীরায় ১ জন, শরীয়তপুরে ১ জন, বরিশালে ১ জন, গোপালগঞ্জে ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

একই সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলে গাছপালা ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে লক্ষাধিক। এর মধ্যে শুধু সাতক্ষীরায় বুলবুলের তাণ্ডবে ৫০ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার থেকে ১২৫ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি নিয়ে বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ৯টায় পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সাগর দ্বীপ উপকূলে আঘাত হানে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল।

পুরোপুরি স্থলভাগে উঠে আসার পর সুন্দরবনের ভারতীয় অংশের কাছ দিয়ে এ ঝড় পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করে। তারপর রোববার ভোর ৫টার দিকে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছায়। বৃষ্টি ঝরিয়ে শক্তি হারিয়ে সকালে বুলবুল পরিণত হয় গভীর স্থল নিম্নচাপে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান রোববার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোতে চার থেকে পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


আরও পড়ুন