কিশোরগঞ্জের খবর - কুলিয়ারচর - নভেম্বর ১৪, ২০১৯

গেইটম্যানকে মারধরের অভিযোগে মামলার প্রতিবাদে ইউএনও’র সংবাদ সম্মেলন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে রেলওয়ে গেইটম্যানকে মারধরের অভিযোগে ভৈরব জিআরপি থানায় জিডি ও বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রচার করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলার নির্বাহী অফিসার কাউসার আজিজ।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্টিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউসার আজিজ লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, গত ৮ নভেম্বর শুক্রবার দুপুর ১ টার দিকে তিনি উপজেলার ছয়সূতী খেলার মাঠে লায়ন্স ক্লাবের চক্ষু পরিচর্যা ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে অফিসে আসার পথে কুলিয়ারচর রেলস্টেশনের দক্ষিণ পার্শ্বের রেল গেটে পৌঁছার সময় বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি আউটার সিগন্যালে দাড়ানো অবস্থায় রেলওয়ে গেইটটি বন্ধ করে দেয়। সোয়া ১ টা বাজার পরও যখন গেইটি খুলছিল না তখন জুমার নামাজে অংশগ্রহণের জন্য রাস্তায় লোকজন ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং কুলিয়ারচরে প্রবেশ করার জন্য বিভিন্ন যান বাহন দাড়ানোর দীর্ঘ লাইন হয়ে যায় এবং ১টা থেকে ১.১৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ১৯ মিনিট দীর্ঘ জানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় তিনিও সেখানে গাড়িতে বসা ছিলেন। গেইটম্যানকে ডাকাডাকি করলে কোন গেইটম্যান পাওয়া যায়নি। গার্ডরুমে তখন কম বয়সী একটি ছেলে দাঁড়ানো ছিল। ট্রেন আসতে বিলম্ব হচ্ছে বিধায় সাধারণ মানুষের সমস্যা উপলদ্ধি করে তিনি তাঁর অফিস সহায়ক হিমেল মিয়াকে গেইটম্যানের সাথে কথা বলার জন্য পাঠান। তার ডাকে পার্শ্ববর্তী বাসা থেকে গেইটম্যান সিপরাত হোসেন বের হয়ে আসে। তখন তাঁর অফিস সহায়ক হিমেল মিয়া গেইটম্যানকে গাড়ির কাছে ডেকে নিয়ে আসে। তিনি গাড়িতে বসা অবস্থায় গ্লাস খুলে গেইটম্যানকে ট্রেন আসতে বিলম্ব হচ্ছে কেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে গেইটম্যান সিপরাত হোসেন তার সাথে অশোভন আচরণ করে। এতে তিনি তাঁর অফিস সহায়ককে উক্ত ব্যক্তির নাম ঠিকানা গ্রহণ করার জন্য বলেন। তারপর ট্রেন চলে যাওয়ায় তিনি গাড়ী নিয়ে তৎক্ষণাৎ কর্মস্থলে চলে যান। তিনি গাড়ি থেকে নামেননি এবং গেইটম্যানকে কোন মারধরের ঘটনা ঘটেনিই বলে দাবী করেন। এই ঘটনায় গত ১১ নভেম্বর ভৈরব জি আর পি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি জিডি হয়েছে। জিডি নং-৩৭২। এ ছাড়া এ ঘটনায় বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি উক্ত জিডিও প্রকাশিত সংবাদগুলো মিথ্যা দাবী করে প্রতিবাদ জানান। এ সময় উপজেলার পরিষদের ভাইস চেয়াম্যান সৈয়দ নূরে আলম সহ জনপ্রতিনিধি ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারী অফিসের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দায়িত্ব পালনের সময় রেলওয়ের গেটম্যানকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাউসার আজিজের বিরুদ্ধে ভৈরব জিআরপি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মামলার এজাহার গ্রহণ করে এফআইআর করতে আদালতের অনুমতি চেয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৮ নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি এলাকায় (গেইট নং টি/১০, কি.মি ২৪৭/৫-৬) দায়িত্ব পালন করছিলেন রেলওয়ের অস্থায়ী গেইটকিপার (গেইটম্যান) মো. সিপরাত হোসেন। এ সময় বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন আসার সংকেত পেয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে ছয়সূতি-কুলিয়ারচরের মধ্যবর্তী গেইটে ব্যারিয়ার ফেলেন তিনি। এতে সড়কে সাময়িক সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আটকা পড়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউসার আজিজকে বহনকারী সরকারী গাড়িটিও। এ সময় গাড়িচালক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার গেইটকিপারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারা কাউসার আজিজ গাড়ি থেকে নেমে গেইটকিপারকে গালিগালাজ ও বেধড়ক মারধর করেন। বিষয়টি ওই দিনই গেটকিপার মো. সিফরাত হোসেন রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে জানান। পরদিন কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) আনিসুজ্জামান ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশকে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

এ দিকে গত ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ের কেন্দ্রীয় বিভাগীয় প্রকৌশলী/২ মো. সুলতান আলী ভৈরব জিআরপি থানায় একটি মামলার অভিযোগ দাখিল করেন। এতে ‘রেলওয়ে অ্যাক্ট ১৮৮০ অনুসারে জননিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত সরকারি কর্মচারীকে মারধরের ঘটনা গুরুতর অপরাধ’ উল্লেখ করে মামলা গ্রহণপূর্বক বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়।

ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বিশ্বাস মামলার এজাহার পাওয়ার কথা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি যেহেতু সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, তাই মামলা এফআইআর করার জন্য কিশোরগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের (সিজেএম) কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।


আরও পড়ুন