সাদা মনের মানুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার এমপি

আব্দুল মালেক, নীলফামারী থেকে ।। একজন মানুষের বিষয় কিছু না জেনে আলোচনা সমালোচনা করা যায় না। এটা সবারই জানা দরকার। পৃথিবীর ইতিহাস, আসলে নেতৃত্বের ইতিহাস। সঠিক নেতৃত্বের প্রভাবে একটি পরিবার, প্রতিষ্ঠান, দেশ ও জাতি এমনকি বিশ্বকে বদলে দিতে পারে। একজন যোগ্য নেতা ও তার নেতৃত্বদানের হাত ধরে একটি নতুন সভ্যতার জন্ম হতে পারে, শুরু হতে পারে নতুন একটি যুগ। এই নেতৃত্বকে নিয়ে উক্তি দিয়েছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেছিলেন, একজন মানুষের মাঝে যদি সঠিক নেতৃত্বের গুণাবলী থাকে, তাহলে একদল অযোগ্য মানুষদের, অনেক বড় অর্জনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। একজন মানুষের স্বপ্ন যত বড়, তার দলও তত বড় হতে পারে, যদি তার সঠিক নেতৃত্ব থাকে। একজন সত্যিকারের নেতা তাঁর নিজের স্বপ্ন ছড়িয়ে দিতে পারেন অনেক মানুষের মাঝে। নেতাকে অনুসরণ করে তাদের শ্রম ও ঘাম এমনকি তারা নিজের রক্ত দিতেও দ্বিধাবোধ করেনা। এই সব গুণাগুণ নিয়েই সত্যিকারের একজন নেতা যাঁর সামনে গেলেই মানুষ মুগ্ধ হয়। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ায় প্রত্যয়ে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে, দিনরাত ঐক্লান্তিক পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, আসলেই তিনি একজন ভালো মনের মানুষ, জনগনের খুব কাছের মানুষ, যাকে সবসময় কাছে পায়, তিনি হলেন নীলফামারী-০১ আসনের দুই দুইবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন সরকার এমপি।

১৯৫০ সালের ৬ এপ্রিল নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার সদর ডিমলা ইউনিয়নের বাবুর হাট নামক স্থানের একটি স্বম্ভ্রান্ত পরিবারের, পিতা মোঃ ইমাজ উদ্দিন সরকার ও মাতা নাসরিন বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পাকিস্তান আমলের নীলফামারীর ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে তিনি একজন টগবগে যুবক। বঙ্গবন্ধুর ডাকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের জন্য তিনি ডিমলা উপজেলায় সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে ট্রেনিং ক্যাম্পে মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এবং তার নেতৃত্বে অনেক যুবক সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭৩ সালে ডিমলা উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৭৩ সালে ডিমলা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, এবং একটানা ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭ সালে প্রথম উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে, আবারো তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-০১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের  সংসদ সদস্য  নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ লক্ষ ৩ হাজার ৭২৭ ভোট পেয়ে পূর্ণরূপ এমপি নির্বাচিত হন, এবং ৩ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এবছরে ২ অক্টোবর আ’লীগের কাউন্সিলের আবারো তিনি পূর্ণরায় সভাপতি নির্বাচিত হন।

ডিমলার এই সরকার পরিবারটি এখন প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার হিসেবে (ডোমার-ডিমলার) আসনের উন্নয়নশীল ভূমিকায় বিশেষ অবদানকারী একটি পরিবার। আফতাব উদ্দিন সরকার ছাড়াও ছোট ভাই আবুল কাশেম সরকার বর্তমানে ডিমলা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ভাতিজা ফেরদৌস পারভেজ জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মানুষ হিসেবে অনেক ভালো, কাছে গেলেই বুঝা যায় তিনি একজন সাদা মনের মানুষ। আমার মতে সাদা মনের মানুষ বলতে আমি বুঝি তাকে, যাঁর মনটা খুব সুন্দর। মুখে এক কথা মনে আর এক কথা, এরকম না। ইচ্ছাপূর্বক কারো ক্ষতি করবে না, হিংসা নেই, অত্যন্ত সহজ সরল একজন মানুষ। যাই করুক অন্য কাউকে ঠকাতে পারেনা। আমার মনে হয় সৎ চিন্তাভাবনা এবং সৎ কর্ম এই দুইটা গুন একজন মানুষের মধ্যে থাকলে তাকেই ভালো মনের মানুষ হিসেবে ধরা যায়। প্রায় ৭০ বছরের কাছাকাছী বয়স নীলফামারী-০১ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন সরকার। তিনি শৈশব থেকেই সৎ ও সাহসী। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন সঠিক সময়ে। ফজরের নামাজ আদায় করে বাড়ির উঠানে মিল চাতাল সংলগ্ন রাজনৈতিক অফিস কার্যালয়ে সাদামাঠা পোশাকে বসেন। জনগণের কল্যাণে তিনি দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছেন। সাধারণ পোশাক পরে যখন অফিসে বসেন, তখন মনে হয় একজন সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতা-কর্মীদের সাক্ষাৎ ছাড়াও সাধারণ মানুষদের সাথে অমায়িক আচার আচরণে মুগ্ধ ডোমার-ডিমলা উপজেলাবাসি।

খগাখড়িবাড়ি আদাবাড়ির বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মোঃ দিদার হোসেন বলেন, এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন সরকার সম্পর্কে কি বলবো, আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আমার পিতা সমতুল্য, তাঁর আচার-আচরণে ডিমলা-ডোমার উপজেলাবাসী মুগ্ধ।

পশ্চিম ছাতনাই গেন্দিবাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আয়নাল হক জানান, উনিতো একজন মুক্তিযোদ্ধা, তিনি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, তিনি শৈশব থেকেই সৎ চিন্তাভাবনা নিয়ে পথ চলেন। তার সম্পর্কের অনেক গল্প শুনেছি বাবার মুখে।  

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের জেলা আহবায়ক ও ৭১ এর সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত কপিল উদ্দিনের সন্তান, সফিয়ার রহমান বলেন, তিনি ছাত্র জীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাজনীতি করে আসছেন। তার চিন্তাচেতনা জনগনের কল্যাণে কাজ করা। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন নেতা। তাঁর কোনো প্রলোভন বা প্রাপ্তির মোহ কখনো তাকে আছন্ন করেননি বলে আমি মনে করি। হুমকি ও নির্যাতন তার আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত করতে পারেনি। তার মত উদার ও সৎ দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতা ডোমার-ডিমলার রাজনীতিতে কখনো দেখা যায়নি যাবেও না । একজন রাজনৈতিক নেতার মধ্যে আফতাব উদ্দিন সরকারের মতো এতসব দুর্লভ গুণাবলী আমাদের এলাকায় সত্যিসত্যিই বিরল। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, সততা, মানুষের প্রতি গভীর অনুরাগ, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, মেধা, শ্রম, অনুশীলন, ধী-শক্তির সকল গুনের সমাহার তিনি। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সফিয়ার রহমান আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে  তিনি মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক ভুমিকা রেখে দেশ স্বাধীনের জন্য যুদ্ধ করেছেন। আমার পিতাকে উপজেলা প্রশাসন ডিমলায় এমএলএসএস পদে চাকুরী দিয়েছিলেন। এভাবেই তিনি অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে চাকরি দিয়েছেন । 

ডোমার উপজেলার ৩নং গোমনাতী ইউপি মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, কি বলবো উনি যে একজন ভালো মানুষ, সাদা মনের মানুষ তার কাছে না গেলে আমি বুঝাতে পারবোনা। তিনি শুধু ডোমার-ডিমলায় নয়, আমি মনে করবো তার মতো অমায়িক মানুষ নীলফামারীতে পাওয়া যাবে কিনা তা বলতে পারবোনা। বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন সরকার বিগত সরকারের আমল থেকে যে উন্নয়ন করেছেন, যার সফলতা অর্জনের কারণে আবারও তিনি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর গুণাবলী কি বলবো, আপনারা নিজেও জানেন। আমার ইউনিয়নে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টি-আর ও কাবীখা বরাদ্দ দিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। যখন যা চেয়েছি তখন তাই পেয়েছি। তিনি এলাকার মানুষ হিসেবে এলাকাতেই বেশি সময় পার করান। বোড়াগাড়ী থেকে চিলাহাটি স্থলবন্দর পর্যন্ত ১৫১ কোটি টাকার রাস্তার কাজ। ছলেমানের চৌপুথি থেকে গোমানাতী ব্রীজ পর্যন্ত সাড়ে দশ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক বর্তমান চলমান রয়েছে। যার ফলে আমার ইউনিয়নসহ তথা নীলফামারী জেলার উন্নয়ন হবে বলে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মনে করেন ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে নীলফামারী-০১ আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন সরকার এমপি বলেন, আমি জনকল্যাণমুখী সেই শৈশবকাল থেকেই। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও টানা দুইবারের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ। আমাকে জনগণ এত ভালোবাসে, তাঁর প্রতিদান আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দিয়ে যাবো। ক্ষমতা নয়, আমি সারাজীবন জনগণের পাশে থেকে তাদের সেবা করতে চাই।


আরও পড়ুন