দেড় যুগ পর নীলফামারীতে যুব সংহতির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন

দীর্ঘ দেড় যুগ পরে নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত হলো জেলা জাতীয় যুব সংহতির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। এ সম্মেলনে ব্যানার ও পোষ্টারে নাম থাকলেও উপস্থিত ছিলেন না জেলার দলীয় দুই এমপিসহ ছয় উপজেলা জাপার নেতৃবৃন্দ।

এমনকি পৌর শহরের চৌরঙ্গী মোড় সৃতি অম্লানের মাথায় সম্মেলনের মাইক টাঙ্গিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় আলোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে জাতীয় যুব সংহতির জেলা কমিটির আয়োজনে ও জেলা আহবায়ক মমিনুর রশিদ সামুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ্ব জাফর ইকবাল সিদ্দিকী।

সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন জাতীয় যুবসংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলমগীর শিকদার (লোটন)। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় যুবসংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আহসান সাহাজাদা, সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ফয়সাল দিদার (দিপু), সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা জাতীয় যুবসংহতির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য রওশন মহানামা। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম ও জাতীয় শ্রমিক পার্টির জেলা সভাপতি বজলার রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে মমিনুর রশিদ সামুন সভাপতি ও আব্দুল হান্নানকে সাধারণ সম্পাদক করে নাম ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এমনকি জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব শাহাজাহান আলী চৌধুরী উপস্থিত থাকলেও অনুষ্ঠান শুরুতে তিনি সভা মঞ্চ ত্যাগ করেন। জাতীয় যুব সংহতির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ও নীলফামারী-০৪ আসনের এমপি আহসান আদেলুর রহমান আদেল এবং ৩ আসনের এমপি মেজর রানা মোহাম্মদ সোহেল অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকায় জলঢাকা উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব অধ্যাপক মমিনুল ইসলাম মঞ্জু নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠান বর্জন করেন।

জলঢাকা উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব অধ্যাপক মমিনুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, জেলায় জাতীয় পার্টির দুইজন এমপি উপস্থিত নেই, এমনকি জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব উপস্থিত হয়েও আলোচনার শুরুতে সভামঞ্চ বর্জন করে চলে যান, অন্যান্য পাঁচ উপজেলার জাতীয় পার্টির কোন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেননা এবং আমাকে আমন্ত্রণ করেও মঞ্চে বসারমত চেয়ার না দেয়ায়, আমার উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দুদের সাথে নিয়ে অনুষ্ঠান বর্জন করে চলে আসি।

তিনি এ প্রতিবেদককে আরো বলেন, জেলার কোন উপজেলায় জাতীয় যুবসংহতির কাউন্সিল না করেই, কিভাবে তাঁরা জেলার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন করতে পারে।

জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব শাহ্জাহান আলী চৌধুরীকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমার এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় আমি চলে আসি।

সম্মেলনে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে, জলঢাকার এমপি মেজর (অব) রানা মোহাম্মদ সোহেল মোবাইল ফোনে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্বোধনী কাজে ব্যস্থ থাকায় সম্মেলনে যেতে পারিনি।

এদিকে একই বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুরের এমপি ও জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আহসান আদেলুর রহমান আদেল এমপির সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, বিভিন্ন কাজে ব্যস্থতা থাকায় সম্মেলনে যেতে পারিনি।

অপরদিকে নীলফামারীর সৃতি অম্লানে সম্মেলনের মাইক টাঙানোর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শাস্তির দাবি জানান অনেকে।

এ ব্যাপারে জেলা জাতীয় যুবসংহতির সদ্য ঘোষিত  সভাপতি মমিনুর রশিদ সামুন বলেন, আমাদের জেলার দলীয় দুই এমপি বিভিন্ন ব্যস্থতার কারণে সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি বলে মোবাইল ফোনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সৃতি অম্লানের মাথায় মাইক টাঙানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের লোক ভুলবসত সেখানে মাইক টাঙ্গিয়েছে, এজন্য আমরা সম্মেলনে দুঃখ প্রকাশ করেছি।


আরও পড়ুন