হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, পালানোর সময় ইউপি সদস্য আটক

সিলেটের জকিগঞ্জে এক যুবককের হাত-পা বেঁধে বাঁশের সঙ্গে ঝুলিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করার ঘটনায় কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস ছালামকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কানাইঘাট কারাবাল্লা এলাকা থেকে ভারতে যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হয়। জকিগঞ্জ থানার ওসি মীর মো. আব্দুন নাসের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন ঘটনা শুনে নির্যাতনের শিকার জকিগঞ্জের কাজলসার ইউনিয়নের বড়বন্দ গ্রামের মৃত সফর আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিনকে (৩৫) মামলা করার অনুরোধ করেন। পরে গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৪ তারিখ-২১/১০/২০১৯।

এর আগে সালামের অপর ৩ সহযোগীকে আটক করেছে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ। তারা হল এবাদ মেম্বার, আনোয়ার, ও শাহজাহান।

গিয়াস উদ্দিন নামের ঐ যুবককে বাঁশে ঝুলিয়ে মারধর করছেন কাজলশাহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলায় বিচারের নামে এক ইউপি সদস্যের নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বাঁশের সাথে এক তরুণের পা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আর বাঁশটি দুই ব্যক্তি কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। পাশে অনেক মানুষের উপস্থিতি। এরই মধ্যে সাদা শার্ট ও লুঙ্গি পড়া এক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে ওই তরুণের পায়ের নিচে অনবরত আঘাত করছেন। ফলে ওই তরুণ চিৎকার করছেন।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মো. আবদুন নাসের বলেন, নির্যাতনের ঘটনাটি প্রায় ১০ মাস আগের হলেও পুলিশ এ ব্যাপারে কিছুই জানত না। তবে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার কারণে বিষয়টি সিলেটের পুলিশ সুপারের নজরে আসে। এরপরই পুলিশ নাম-পরিচয় সংগ্রহ করে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে।

অন্যদিকে জকিগঞ্জের কাজলশাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জুলকার নাইন লস্কর বলেন, ওই তরুণকে নির্যাতনের ঘটনা আমরা জানতাম না। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে গত বুধবার দেখার পর বিষয়টি জানতে পারি। ইউনিয়নে কেউ আমাদের অভিযোগও দেননি।

প্রসঙ্গত, জকিগঞ্জ উপজেলার চারিগ্রামের মৃত মুহিবুর রহমান ঢালই’র ছেলে ইউপি সদস্য আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থেকে বিচারের নামে অমানুষিক নির্যাতন, নারী কেলেঙ্কারী, দখলবাজী ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ চলে আসছিল। এছাড়াও গত ১০ নভেম্বর উপজেলার আটগ্রাম আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা নও মুসলিম আব্দুল মান্নান বুতুলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ইউপি সদস্য আব্দুস ছালামের নাম আলোচনায় আসে। এবিষয়ে গত ১৪ নভেম্বর সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন নিহতের স্বজনরা।


আরও পড়ুন