বিএনপির আন্দোলনের হুমকি হাস্যকর : তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির আন্দোলনের হুমকি গতানুগতিক এবং বরাবরের মতোই হাস্যকর।

বিএনপি আন্দোলনের নামে বিগত সাড়ে ১০ বছর ধরে একের পর এক হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দলটি আইন মানে না, আদালতকেও সম্মান করে না। কারণ খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন দেওয়ার বিষয়টি সরকারের নয়, এটি আদালতের ব্যাপার। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অতীতের মতো আন্দোলনের নামে গতানুগতিক হুমকি দিয়ে লাভ হবে না। তবে আদালত যদি জামিন দেয় তাহলে তিনি (খালেদা জিয়া) মুক্তি পাবেন। এ ছাড়া অন্য পথ খোলা নেই।

তথ্যমন্ত্রী শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর বসুন্ধরায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে দুদিনব্যাপী ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেয়ার-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, বাংলাদেশে বিচার বিভাগ এখন স্বাধীন। আওয়ামী লীগের অনেক সংসদ সদস্য ও নেতা কারাগারে গেছেন, অনেকেই কারাভোগ করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির শাসনামলে বিচার বিভাগ স্বাধীন ছিল না। তারা বিচার বিভাগকে অনেকটাই কোণঠাসা করে রেখেছিল।

এর আগে বক্তৃতায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সার্বিক সফলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলেন বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার।

ড. হাছান বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনামলে বিগত ১০ বছরের দেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে, তা আর কোনো সরকারের আমলে হয়নি। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মধ্যে উন্নয়নের রোল মডেল।

উন্নত দেশ গড়তে হলে উন্নত জাতি গঠন করা একান্ত প্রয়োজন এ কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালে এ দেশ হবে বিশ্বের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী একটি দেশ। সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। সারা পৃথিবীতে যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। এ দেশের তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা আমাদের হাতিয়ার। তারাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে বদলে দেবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। শিক্ষাজীবন একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়টাকে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। কারণ আজকের শিক্ষার্থীই আগামী দিনে বড় হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করবে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ।

নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা লায়ন বেনজীর আহমেদ, সিটি ব্যাংকের চিফ রিস্ক অফিসার জাবেদ ইকবাল প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

পরে তথ্যমন্ত্রী নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ফিতা কেটে ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেয়ার-২০১৯’র শুভ উদ্বোধন করেন। 

এ সময় আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।


আরও পড়ুন