সরকারি স্কুলে ভর্তিযুদ্ধ শুরু ১ ডিসেম্বর

রাজধানী ঢাকার সরকারি ৪২টি স্কুলে ভর্তিযুদ্ধ শুরু হচ্ছে ১ ডিসেম্বর থেকে। এর মধ্যে তিনটি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে সংযুক্ত ফিডার শাখা রয়েছে। অনলাইনে ওইদিন রাত ১২টা থেকে ১৪ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত ভর্তি আবেদন করা যাবে। এবারও লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ১৪টি স্কুলে ছয় বছর বয়সি শিশু প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে। এ ছাড়া দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা এবং নবম শ্রেণিতে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ঢাকা মহানগরীর স্কুল পাশর্^বর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ এলাকা কোটায় ভর্তির সুযোগ পাবে।

‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে ১৪টি করে স্কুল রয়েছে। ‘এ’ গ্রুপের স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা ১৮ ডিসেম্বর, ‘বি’ গ্রুপের স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা ১৯ ডিসেম্বর, ‘সি’ গ্রুপের স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয়-অষ্টম শ্রেণির শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমান-৫০, এর মধ্যে বাংলা-১৫, ইংরেজি-১৫, গণিত-২০ নম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা। চতুর্থ-অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমাণ-১০০। এর মধ্যে বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩০, গণিত-৪০ এবং ভর্তি পরীক্ষার সময় হবে দুই ঘণ্টা। এ ছাড়া ১৪টি স্কুলে লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে শিশুদের ভর্তি করা হবে। প্রথম শ্রেণি আছে এমন স্কুলগুলো হচ্ছেÑ গর্ভনমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আজিমপুর গভ. গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলা বাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শেরে বাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাই স্কুল (ফিডার শাখা), ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাই স্কুল (ফিডার শাখা), শেরে বাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ মনু মিঞা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (ফিডার শাখা)।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলের পাশাপাশি এবারই প্রথম বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির কারণে তাদের সন্তানদের ভর্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। বদলিজনিত কারণে ভর্তির আবেদনের সময়সীমা হবে ছয় মাস। তবে শূন্য আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যাবে না। অতিরিক্ত ভর্তি করাতে হলে মন্ত্রণালয় থেকে আগে থেকেই অনুমতি নিতে হবে

নীতিমালায় সব মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা সদরেও কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। তবে নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোনো কারণে অনলাইনে না করা গেলে শুধু উপজেলার ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি ভর্তি করা যাবে। যমজ সন্তানের একজন আগে থেকে অধ্যয়নরত থাকলে ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ঢাকা মহানগরীতে সরকারি বিদ্যালয় এলাকায় ওই এলাকার ৪০ শতাংশ কোটা রেখে অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা সন্তানদের ছেলেমেয়ের জন্য পাঁচ শতাংশ, প্রতিবন্ধীদের জন্য দুই শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তান এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও দুই শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে।


আরও পড়ুন