রাজীব-দিয়া হত্যা : জাবালে নূরের চালকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া ও রাজীব নিহতের ঘটনায় করা মামলায় জাবালে নূর পরিবহনের চালকসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে মালিক ও হেলপারকে খালাস দেয়া হয়েছে।

রবিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং চালকের সহকারী কাজী আসাদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া, বাসমালিক জাহাঙ্গীর আলম এবং চালকের সহকারী এনায়েত হোসেনকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।

এ মামলার ছয় আসামির মধ্যে বাসমালিক জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং সহকারী এনায়েত হোসেন কারাগারে রয়েছেন। জামিনে থাকা আরেক বাসমালিক শাহাদাত। আর চালকের সহকারী কাজী আসাদ এখনো পলাতক।

২০১৮ সালের ২৯ জুলাই দুপুরে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে আসামি মাসুমের বাসটি শিক্ষার্থীদের ওপরে উঠে গিয়েছিল। এতে ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম (১৭) ও আবদুল করিম রাজীব (১৭) নিহত হয়। এতে আহত হয় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী।

দিয়া ও রাজীবের মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। নজিরবিহীন এ আন্দোলনে এক সপ্তাহ অচল ছিল ঢাকার সড়ক, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জেলায়। পরে সরকারের তরফে সব দাবি পূরণের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে সরে আসে। এর কিছুদিন পর সংসদে পাস হয় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সড়ক পরিবহন আইন। গত ১ নভেম্বর আইনটি কার্যকরের কথা থাকলেও কার্যত তা হয়নি।

ঘটনার দিন রাতেই নিহত দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৭৯, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার দিন দুপুরবেলা জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের ঢাল থেকে নামার মুখে জাবালে নূরের দুটি বাস রেষারেষি করতে গিয়ে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায়। এতে রাজীব ও দিয়ার মৃত্যু হয়। দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা অর্থাৎ অপরাধজনক নরহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

এরপর গত বছরের ২৫ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। গত ১৪ নভেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে আদালত। বিচারকালে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে ৩৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেয়।


আরও পড়ুন