হলি আর্টিজান মামলার রায়ের কপি উচ্চ আদালতে

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলা মামলায় সাত আসামির ফাঁসি আদেশের রায়ের কপি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পেশকার রুহুল আমীন মামলার ২৩০৫ পৃষ্ঠার রায়ের কপি হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছে দেন। নিয়ম অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক অনুমোদনের জন্য মামলার নখি পাঠানো হয়।

গত ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর হোসেন, আসলাম হোসেন র‌্যাশ, মো. হাদিসুর রহমান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, মো. আব্দুল সবুর খান, শরিফুল ইসলাম খালেক ও মামুনুর রশীদ রিপন।

অপরদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন বিচারক।

এছাড়া রায়ে আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন, আসলাম হোসেন র‌্যাশ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, মো. আব্দুল সবুর খান ও শরিফুল ইসলাম খালেককে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এর ৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদন্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন, আসলাম হোসেন র‌্যাশ, মো. আব্দুল সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, শরিফুল ইসলাম খালেক ও মামুনুর রশীদ রিপনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এর ৮/৯ ধারায় দোষীসাব্যস্ত করে এ আইনের ৮ ধারায় প্রত্যেককে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এই আইনের ৯ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আসামি মামুনুর রশীদ রিপনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এর ৭ ধারায় অভিযোগ, আসামি মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এর ৬ (২) (অ)/৭/৮/৯/১০/১১/১২/১৩ ধারার অভিযোগ এবং আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন, আসলাম হোসেন র‌্যাশ, আব্দুস সবুর খান, মো. হাদিসুর রহমান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, শরীফুল ইসলাম খালেক ও মামুনুর রশীদ রিপনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এর ১০/১১/১২/১৩ ধারার অভিযোগ হতে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ এ ধারা মতে আসামিদের বিচারকালীন হাজতবাস দণ্ডাদেশ হতে কর্তন হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গিরা তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জন জিম্মিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। একই ঘটনায় সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের গ্রেনেডের আঘাতে রেস্টুরেন্টের বাইরে মারা যান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন খান।

পরদিন সকালে সেনাবাহিনী ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ নামে এক অভিযান চালায়। ওই অভিযানে পাঁচজন জঙ্গি নিহত হয়। এ ছাড়া অভিযানে জিম্মি দশা থেকে ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ৪ জুলাই রাতে গুলশান থানার এসআই রিপন কুমার দাস বাদী হয়ে গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন।


আরও পড়ুন