রুম্পাকে হত্যার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ, প্রেমিক রিমান্ডে

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পাকে (২১) ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অনুমান করছে পুলিশ।

হত্যায় জড়িত সন্দেহে আসামি ও রুম্পার প্রেমিক আবদুর রহমান সৈকতসহ (২২) একাধিক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা পুলিশের।

রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে পাঠানো পুলিশ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করে আসামি সৈকতকে  জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন।

আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে শনিবার ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সৈকতকে রাজধানীর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নেয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রাতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ডিবি দক্ষিণ বিভাগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পরিদর্শক আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ভিকটিম রুম্পার সহপাঠী আবদুর রহমান সৈকতকে মামলার আসামি হিসাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিবিএর ছাত্র। ভিকটিম রুম্পা একই ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ঘটনার দিন (বুধবার) বিকেল অনুমান ৪টার দিকে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের বাইরের রাস্তায় রুম্পা ও সৈকতকে এক সঙ্গে দেখা গেছে বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ওইসময় প্রেম নিয়ে তাদের মধ্যে কথা উঠলে আসামি আবদুর রহমান সৈকত কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া সম্পর্ক ছিন্ন করতে রুম্পাকে অনুরোধ করেন। এতে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে বিরোধ চরমে ওঠে। এর প্রেক্ষিতে বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ভিকটিম রুম্পাকে আসামি সৈকত ও একজন অজ্ঞাতনামা সহযোগী মিলে হত্যা করে লাশ ৬৪/৪ সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে বাসার সামনে ছাদ থেকে ফেলে দেয় মর্মে প্রাথমিকভাবে জোর সন্দেহ হচ্ছে।

ডিবির দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শামসুল আরেফিন বলেন, রুম্পার লাশ উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা হয়েছে। হত্যা মামলা ধরেই আমরা তদন্ত করছি। এই তদন্ত আমাদের যেদিকে নিয়ে যাবে সেদিকেই যাব, তারপরই রহস্য জানা যাবে।   

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদ বলেন, ‘রুম্পা ছিল আমার বিভাগের ছোট বোন। ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের ক্যানটিনে একসঙ্গে কফি খেয়েছি। তখন সে ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার কথা জানিয়েছিল। খেলাধুলার বিষয়ে আরো কিছু কথাবার্তা হয় তার সঙ্গে। তারপর সে আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়। কথা বলার সময় তাকে স্বাভাবিক মনে হয়েছে। কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করি নাই’।

বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে  লাশ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সংস্থা তদন্তে নামে।  প্রথমে রমনা থানা পুলিশ এই মামলার তদন্ত শুরু করে। চার দিনেও কোনো ক্লু না পাওয়ায় মামলা তদন্তের ভার ন্যস্ত হয় ডিবির দক্ষিণ বিভাগে।

ডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,  এই মামলার তদন্তের স্বার্থে  রুম্পার সহপাঠীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধারস্থলের আশপাশে থাকা সব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন আসামি সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও  পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির  ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর রুম্পা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন হবে।

অপর এক কর্মকর্তা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণের তথ্যানুযায়ী রুম্পার লাশ উদ্ধার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে রুম্পার সঙ্গে সৈকতসহ আরো এক তরুণী ছিলেন। সৈকতের মাধ্যমে ওই তরুণীর পরিচয় জানতে পেরেছি। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এদিকে রবিবার দুপুর ১২টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর স্ট্যামফোর্ড ক্যাম্পাসে রুম্পা হত্যার বিচার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সহপাঠীরা। তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রুম্পা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান।


আরও পড়ুন