অপরাধ - December 11, 2019

অবৈধ মানবাধিকার সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’কে মা ডেকে অভিযোগ লিখেছেন সংবাদিক নজরুল ইসলাম দয়া। তিনি আজকের তাজা খবর পত্রিকার বার্তা সম্পাদক। সারাদেশে সরকারি বৈধতা ছাড়াই মানবাধিকার সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন ও তদন্ত কর্মকর্তার দৌরাত্ম অহরহ। গ্রামের সহজ সরল মানুষের সরলতার সুযোগে তাঁরা প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বগুড়ার নন্দীগ্রামে ডাক অফিসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে সাংবাদিকের স্বাক্ষরিত অভিযোগটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঠিকানায় পাঠানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার ছোট শিবেরচর গ্রামের গ্রাম পুলিশ হাবিবুর রহমানের ছেলে আতিকুর রহমান অরফে ঘটক আতিক নিজেকে সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, মানবাধিকার চেয়ারম্যান, আবার কখনো তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে অপরাধ অনুসন্ধানের নামে প্রতারণা করে আর্থিক ফায়দা লুটছে। তিনি বর্তমানে রাজধানীর মিরপুরে বসে প্রতারক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। এই অসাধূ ব্যক্তির সাথে শাহিনুর নামের এক নারীসহ একটি বড় চক্র আছে। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে সিন্ডিকেট চালায়।

বিজয়ের মাস টার্গেট করে রেজিস্ট্রেশন বিহীন অবৈধ ‘ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন’র প্রতারণার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ। একজন গনমাধ্যমকর্মীর আবেদন।’ শীর্ষক বিষয়ের অভিযোগে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম দয়া লিখেছেন, জয়েন স্টোকে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ২০১৮ সালের ১১ মার্চ ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন নামে সংগঠনের বৈধতার জন্য আবেদন নং ২০১৮৮৩৫৫৭৭ করেন অভিযুক্ত আতিকুর রহমান। তাঁর পিতা গ্রাম্য চৌকিদার হলেও আবেদনে এবং গঠনতন্ত্রে তিনি পিতার নামের আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম না থাকা সত্বেও নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নিজের পিতাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে জালিয়াতি করেছে। সংগঠনের বৈধতার জন্য যেসকল নিয়ম রয়েছে, সবগুলোতেই ব্যর্থ হওয়ায় আবেদনের মেয়াদ শেষ হয় ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর। সংগঠনের বৈধতা না পেলেও দেদারছে চলছে তাঁদের অপকর্ম। তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে অপরাধ অনুসন্ধানের নামে লাখ টাকা বখরা নেন তিনি। সংগঠনের কথিত চেয়ারম্যান ঘটক আতিকের বেশকয়েকটি ফোন রেকর্ড সংগ্রহ করে অবৈধ মানবাধিকার সংগঠনের মুখোশ উন্মোচন করে চলতি ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ‘মুখোশের আড়ালে আতিকের অপকর্ম’ শীর্ষক সংবাদ গনমাধ্যমে প্রকাশ করি। এরপর থেকেই আমার পেছনে লেগেছে ওই অপরাধী চক্র। আমার ছবি সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার সহ মানহানি করে চলেছে প্রতারক চক্রের সদস্যরা। এঘটনায় প্রতারক চক্রের প্রধান আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা তুরাগ থানায় আমি একটি জিডি করেছি। জিডি নং- ২২৬, তারিখ ০৫/০৭/২০১৯ ইং। এতেও সুফল পাইনি। বর্তমানেও আমার সম্মানহানি করে ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে ওই চক্র। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাস থেকে অভিযুক্ত সংগঠন ও ব্যক্তিরা ‘মহান বিজয় দিবস’ ও বিজয়ের মাস টার্গেট করে একলাখ কর্মী সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রত্যেকের কাছ থেকেই সম্মানি ফি নামে চাঁদাবাজি করছে। এই বিষয়েও গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। গ্রামের সহজ সরল মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন নামের এই অবৈধ সংগঠন কোটি টাকার প্রতারণার মিশনে নেমেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’কে মা ডেকে অভিযোগে আরও বলা হয়- মা, আপনার সন্তানদের দিকে একবার সু-নজর দিন। বাংলাদেশে কিছু ভুয়া সংগঠনের দৌরাত্ম বন্ধে আপনার হস্তক্ষেপ জরুরি। প্রতারক আতিকুর রহমান অরফে ঘটক আতিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়ে ওই সংগঠনের প্রতারণা সহ নানা অপকর্মের প্রমাণ সংযুক্ত করে অভিযোগ পাঠিয়েছেন এই সাংবাদিক। অভিযোগের অনুলিপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

সাংবাদিক নজরুল ইসলাম দয়া বলেন, গত রবিবার ডাক অফিসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছি। গত কয়েকবছর ধরে বিভিন্ন নামে ভুয়া সংগঠনের দৌরাত্ম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গ্রাম পর্যায়েও সহজ সরল মানুষকে জিম্মি করে প্রতারণা করে চলেছে। সংগঠনের আইডি কার্ড বিক্রি ও সদস্য সংগ্রহের নামে চাঁদাবাজি চলছে। সাধারণ মানুষ ভয়ে চুপ থাকে। আমি গনমাধ্যমকর্মী তো চুপ থাকতে পারিনা। সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই প্রতিবাদে নেমেছি।


আরও পড়ুন