আন্তর্জাতিক - December 14, 2019

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে এবার উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের প্রতিবাদে শনিবার দফায় দফায় বিক্ষোভ, রেল-সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। রাজ্যের কোথাও কোথাও বাস-গাড়িতে ভাঙচুর হয়েছে। বিক্ষোভ ধীরে ধীরে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।

বুধবার রাতে ভারতের রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল পাস হয়। এর প্রতিবাদে ওই দিনই আসাম বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে রাজ্যে পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মেঘালয়তেও বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির পাশাপাশি শুক্রবার নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের আঁচ পশ্চিমবঙ্গেও ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর থেকেই অশান্ত হয়ে ওঠে উলুবেড়িয়া, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙাসহ রাজ্যের বেশ কিছু অঞ্চল। বিক্ষোভের আঁচ পড়ে খাস কলকাতায়। আইন নিজেদের হাতে তুলে না নেওয়ার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল। কিন্তু তারপরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

শনিবার সকাল থেকেই ডোমজুড়ের সলপ মোড়ে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলছে। কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ চলে। বেশ কয়েকটি সরকারি বাসে ভাঙচুর চালানো হয়। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে।

শিয়ালদহের বারাসত-হাসনাবাদে বিক্ষোভের জেরে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে। লক্ষ্মীকান্তপুর-নামখানা শাখায় বিক্ষোভকারীরা রেলের ওভারহেড তারে কলাপাতা ফেলে দেওয়ায় সকাল ৮টা থেকে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মালদহ ডিভিশনের আজিমগঞ্জ শাখাতেও বিক্ষোভের জেরে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে বহু ট্রেন। বাসুদেবপুরে হল্ট স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। সাঁকরাইল স্টেশনে তারা ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।


আরও পড়ুন