দেশের খবর - December 21, 2019

নীলফামারীতে বাড়ছে শৈত্যপ্রবাহের প্রকোপ, ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষ

দেশের সর্ব উত্তরের নীলফামারী সহ রংপুর অঞ্চলে টানা শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। ফলে শীতের দাপট যেনো কোনোভাবেই কমছে না। দিনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান কমে এসেছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রার চরম পতনে শহর থেকে গ্রামের মানুষজন শীতের দাপটের হাত হতে সহজে রেহাই পাচ্ছেনা। হিমালয় ছুঁয়ে আসা উত্তরের কনকনে ঠান্ডা বাতাস শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে দ্বিগুণ। চারদিন ধরে নেই সূর্য্যরে দেখা। চারিদিকে স্যাত স্যাত অবস্থা। রাতে বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝড়ছে। ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কম থাকায় নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সকালের বিমান চলাচল করছে না। সিডিউল বিপর্যয় হয়ে দুই থেকে চার ঘন্টা বিলম্বে চলাচল করছে এ অঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনগুলো। এতে ট্রেনের যাত্রীরা শীতের ভোগান্তিতে পড়ছে। শরীরে গরম কাপড় চাপিয়েও শীত নিবারন কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন তাপানো শুরু হয়েছে। গবাদীপশু পাখিরাও শীতে কাবু।

উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের আবহাওয়া অফিস রয়েছে ৫টি। আজ শনিবার এ সকল আবহাওয়া অফিসের তাপমান যন্ত্রে উঠেছে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা একেবারেই অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে। আবহাওয়া অফিস গুলো প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় সর্বনিম্ন ১১.৮ ও সর্বোচ্চ ১৪.২, সৈয়দপুর উপজেলায় সর্বনিম্ন ১২ ও সর্বোচ্চ ১৯.২, রংপুরে সর্বনিম্ন ১২ ও সর্বোচ্চ ১৫.৫ ,দিনাজপুরে সর্বনিম্ন ১১.৩ ও সর্বোচ্চ ১৪.১ , কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনিম্ন ১২ ও সর্বোচ্চ ১৫.৫ এবং পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ১১.৩ ও সর্বোচ্চ ১৪.৩।

সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য প্রায় সমান সমান হয়ে এসেছে। বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রার চরম পতন হয়েছে। টানা শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে সূর্যের বিকিরণ নেই। এতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার কাছাকাছি চলে আসছে। আবহাওয়ার ভাষায় তাপমাত্রা সাধারণত ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। আর ৮ ডিগ্রীর সেলসিয়াসের নিচে নামলে মাঝারি এবং ৬ ডিগ্রীর নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর এমন শীত পড়েনি। আগামী সপ্তাহে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এতেও শীত কমবে না। জানুয়ারি মাস জুড়েই দাপিয়ে বেড়াবে শীত।

এদিকে, হিম বাতাস আর দিনভর ঘন কুয়াশা নিয়ে শীত যেন কামড় বসিয়েছে এ অঞ্চলে। শীতের তীব্রতায় জবুথবু হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সকালের দিকে স্কুলগামী শিশু ও তাদের অভিভাবকদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই রাস্তায় যানবাহন চলাচল কমে যাচ্ছে। এজন্য সন্ধ্যার পর ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে শহরের বেশিরভাগ দোকানপাট ও শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।অপরদিকে শীত নিবারণ করতে গিয়ে রংপুরের বিভিন্ন জেলায় আগুন পোহাতে গিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানায়, শীত নিবারণ করতে গ্রামাঞ্চলে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে অসাবধানবশত আগুন ধরে যায়। এতে ছয় জন দগ্ধ হন। দগ্ধরা হলেন- রংপুরের পীরগাছার ফরিদা বেগম, রংপুর নগরীর পাশারী পাড়ার রোকেয়া বেগম, পীরগঞ্জের হালিমা খাতুন , কুড়িগ্রামের নুরন নাহার বেগম, ঠাকুরগাঁওয়ের আলেমা বেগম ও দিনাজপুরের খানসামা এলাকার শামসুন্নাহার বেগম।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. মারুফুল ইসলাম জানান, প্রত্যোকের শরীরে ২০ থেকে ৩৫ ভাগ অংশ পুড়ে গেছে।এ ছাড়া শীতের কারনে বেড়েছে নিউমোনিয়া, রোটা ভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগ।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গত চারদিনে হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ শিশুর। নীলফামারীর গৃহবধু সালেহা বেগম তার সন্তানকে রংপুরে নিয়ে ভর্তি করে চিকিৎসা করাচ্ছেন। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শ্যামলী রানী রায় জানান তার দুই যমজ শিশুসন্তান ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে রংপুর মেডিকেণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরইমধ্যে একজন মারা গেছে। অপরজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক|


আরও পড়ুন