সপ্তাহজুড়ে শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস

পৌষের শুরু থেকেই শুরু হয়েছে এবারের শীত মৌসুমের শৈত্যপ্রবাহ। মাঝখানে দু-এক দিন বিরতি দিয়ে গত সপ্তাহজুড়ে তা অব্যাহত ছিল দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায়। এই সময়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ছয় ডিগ্রির নিচে।

তীব্র শীতে ভোগান্তি বেড়েছে নিম্নবিত্তসহ সাধারণ মানুষের। শীতার্তদের ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা নেই আগামী সপ্তাহজুড়েও। পুরো সময়টাতেই শৈত্যপ্রবাহ থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুধু থাকবেই না, আরও বেশি এলাকায় বিস্তৃত হতে পারে শৈত্যপ্রবাহ। বেশ কিছু এলাকায় তাপমাত্রা নামতে পারে ৬-৮ ডিগ্রিতে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শনিবার থেকে দেশের অধিকাংশ জায়গায় সূর্যের দেখা মিলতে পারে। ফলে দিনের তাপমাত্রা বাড়বে। তবে কমবে রাতের তাপমাত্রা।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক শুক্রবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শনিবার থেকে প্রায় সারা দেশেই রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে। চলমান শৈত্যপ্রবাহ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে বিস্তৃতি লাভ করতে পারে। এ অবস্থা আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে রংপুরসহ কিছু এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬-৮ ডিগ্রিতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। দু এক জায়গায় ৬ ডিগ্রির নিচেও নামতে পারে।’

শুক্রবার রংপুর ছাড়া সব বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল, খুলনা ও ঢাকা বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে ভোলায়। একই  সময়ে রাজধানীতে হয়েছে ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি। যে সব এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে সেসব এলাকাতে তাপমাত্রা বেড়েছে। কমেছে শৈত্যপ্রবাহের বিস্তৃতি।

বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ, রাজশাহী, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জসহ পুরো রংপুর বিভাগে শৈত্যপ্রবাহ বিস্তৃত থাকলেও শুক্রবার শুধু রংপুরের তিনটি এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। টানা চতুর্থদিনের মতো শুক্রবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (৯ দশমিক ২ ডিগ্রি) রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। গত বৃহস্পতিবার এ মৌসুমের সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয় সেখানে।

এদিন রাজধানীতেও বেড়েছে তাপমাত্রা। আগের দিনের ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি থেকে বেড়ে শুক্রবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারা দিন সূর্যের দেখা না মেলায় এদিন রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় তিন ডিগ্রি কমেছে। ফলে রাতে শীতের মাত্রা কমলেও দিনে ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে।

আগামী সপ্তাহে দেশের কিছু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ বিস্তৃতি পেলেও রাজধানীতে সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক। তবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রিতে নামতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের শনিবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। দুপুর পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নীলফামারী অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে; তা অব্যাহত থাকতে পারে এবং বিস্তার লাভ করতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি বাড়তে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং আগামী ৫ দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।


আরও পড়ুন