মুক্তকলাম - January 3, 2020

স্মৃতিতে অনুভূতির মরহুম ‘সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম’

কিশোরগঞ্জ আর দেশের ত্যাগী নেতা কর্মীরা জানে তোমার প্রস্থানের শূনতা অপূরণীয়! বুকের বা’পাশে ও নাকে চাপা ব্যাথা অনুভবে যখন চোখে পানি তখন দীর্ঘশ্বাসে ভিতর থেকে অজান্তেই উচ্চারিত হয় প্রিয় অনুভূতি ক্ষমা করে দিও, আমরা অসহায়, সামর্থ্যহীন তোমার সততার পথ অনুসরণ করে। আমরা এক ছাতার নিচে এসে কিছুটা সময় এক অভিন্ন হয়ে একসাথে দাড়িয়ে তোমায় স্মরণ করতে ব্যর্থ।

কুৎসিত কালো অন্ধকার রাজনীতির আগ্রাসনে যখন বাংলার সকল রাজনৈতিক অঙ্গন দুর্নীতি, লুটপাটের কর্পোরেট অফিস তখন তুমিই জননেত্রীর পাশে সততার আলোকিত উজ্বল বাতিঘর।

কুৎসিত কালো রাজনীতির রথী মহারথী নেতারা তোমার সমালোচনা করত, তুমি জনবিচ্ছন্ন, তুমি কর্মীবান্ধন নেতা নও, তুমি ঘুমিয়ে থাক বলে নেতা কর্মীরা সাক্ষাৎ করতে পারেনা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় থেকে হতাশ হয়েই ফিরে আসে তোমার বাসা থেকে।

মিথ্যা প্রোগাণ্ডা আর গুজবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা দিনের আলোর সত পরিষ্কার সত্যটা কৌতুহলী ত্যাগী নেতা কর্মীরা ঠিকই আবিস্কার করেছে। মিথ্যা প্রোগাণ্ডা ছড়িয়ে রথী মহারথীরা ফায়দা নিতেও ব্যর্থ হয়েছে। তুমি দুতলায় ঠিকই তোমার কাজে ব্যস্ত থাকতে আর জানতে নিচে অপেক্ষমাণ তদবির, তৈলবাজ, দুর্নীতিবাজ কর্পোরেট ব্যক্তিরা তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছে। কোন কর্পোরেট ব্যবসায়ী যখন আসত তখন বলতে, আমার কাছে কি জন্য এসেছে? আমি তো কর্পোরেট ব্যবসায়ী নই তাহলে কি প্রয়োজনে সাক্ষাৎ করবে?

তুমি সেই ব্যক্তিত্ব যে দায়িত্ব নিয়মের বাহিরে অপ্রয়োজনীয় কাজ, কথা পছন্দ করতে না। সিক্রেট কূটনীতিক মিশনের দায়িত্ব নিয়ে সফলতার সাথে শেষ করেই বলতে জননেত্রীর নেতৃত্বে সবকিছু সফল হয়েছে, কখনই নিজের প্রচার করতে না, কেউ করলেও সেটা পছন্দ করতে না।

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় যথেষ্ট সময় তোমার ছিলনা, বিদেশি কূটনৈতিক, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে মিটিং, দলের ভবিষৎ করণীয় চিন্তা ভাবনায় তোমার সময়েই হতোনা পরিবারের কথা। তারপরেও দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় কোনপ্রকার ত্রুটি বিচ্যুতি ছিলনা। অভিভাবক ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি ইউনিট কার্যক্রম পরিচালনায় ছিল স্বচ্ছতা, নেতা-কর্মীরা ছিল কঠোর নিয়ন্ত্রনে। প্রয়োজনে বাহিরে নেতা-কর্মীদের সময় দিলে বেপরোয়া হয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করবে, দুর্নীতি লুটপাট বৃদ্ধি পাবে এই সহজ ভাবনা তুমিই জানতে বলেই অতীতের সকল সাধারণ-সম্পাদক পিছনে ফেলে একমাত্র সফল সাধারণ-সম্পাদক হয়ে তৃনমূল নেতা-কর্মী সহ দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আস্থা বিশ্বাসের প্রতীক ছিলে তুমি।

টেকসই আধুনিক চিন্তা ভাবনা ও তা বাস্তবায়নে তুমি ছিলে রাজনৈতিক দার্শনিক। কুৎসিত কালো অন্ধকারে একমাত্র আলোকিত বাতিঘর হয়ে আলোকিত করেছো সকল অন্ধকার। দেশের জনগণ আর রাজনৈতিক দলেও তোমার ভাবনার চর্চা হয়েছে বলেই আগ্রহ হারিয়ে যাওয়া প্রজন্ম রাজনীতিতে ফিরেছে এবং সততার সাথে রাজনীতি করছে।

তোমার নির্বাচনী আসনে কখনই কোন সাংগঠনিক কার্যক্রমে ও কমিটি গঠনে হস্তক্ষেপ করনি শুধু বলেছো যারা প্রকৃত যোগ্য তাদের দিয়েই কমিটি গঠন করতে। নির্বাচনী আসনের কর্মী ভোটাদের মাঝে ছিল অনেক অভিমান তুমি আসতে না বলে। যখন ভোটার কর্মীরা দেখতো বুঝতো তুমি দেশের কাজে, টেকসই ভবিষতের জন্য ব্যস্ততায় অক্লান্ত কাজ করছো তখন অভিমান ভুলে গর্ব অহংকার করে বলত আমার ভোটে নির্বাচিত এম পি একজন সৎ ব্যক্তি। দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে যখন ভোটার কর্মীরা তোমার প্রশংসা শুনতো তখন অভিমান ভুলে আরো ভালবাসত সৈয়দ আশরাফ ব্যক্তিত্বকে। নির্বাচনী আসনের উন্নয়নে অদৃশ্য বাধায় কখনই তুমি নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া করনি, সহনশীল ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে সফলতার সাথে বাস্তবতায় করেছো।

ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হয়েও তুমি ছিলে সাদামাটা সহজ সরল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। অর্থ বিলাসিতা আর লোভ কখনই তোমায় স্পর্শ করতে পারেনি। দুর্নীতিবাজ আর লুটপাট রাজনীতির মাঝে তুমিই ছিলে নীতি আদর্শের সততার মূর্ত প্রতীক, সততার উজ্বল বাতিঘর হয়ে জীবন কে যাপন করেছো।

শীতের কুয়াশায় আগমনের আগেই তোমার প্রস্থানের শোক গভীর কুয়াশা হয়ে প্রকৃতি ডেকে দিয়েছে সেদিন। শীতের পরেই বসন্তের আগমনে প্রকৃতি সাজে নবরূপে কিন্তুু কিশোরগঞ্জ বসন্তের নবরূপ সবুজ হয়না তোমার প্রস্থানে। কিশোরগঞ্জ বাসীর বসন্ত তোমার প্রস্থানে হারিয়ে গিয়েছে।

প্রিয় অনুভূতি, বিশ্বাস করি তুমি সবকিছুই দূর থেকে দেখছো কিশোরগঞ্জ আজ তোমার শূন্যতায় মূল্যহীন। বিশ্বাস করি তুমি দেখতেছো কাদের কাছে তুমি আজ দোকান আর কাদের কাছে তুমি আবেগ অনুভূতি ও আদর্শ।

রাজনৈতিক দার্শনিক সৈয়দ আশরাফ একজনই, যুগ যুগের ব্যকুল অপেক্ষায় আসে সৈয়দ আশরাফ এই পৃথিবীতে। চিন্তা ভাবনায় থাকে সত্যর সভ্যতা, নীতি আদর্শের পথচলা।

বিশ্বাস করি, আবারো তোমার আদর্শের আলোতে আলোকিত হবে জননী জন্মভূমির সমগ্র প্রান্তর। তুমি চিরদিন বেঁচে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। কুৎসিত কালো অন্ধকার চিন্তার রথী মহারথী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বলয় থেকে মুক্ত হবেই রাজনৈতিক প্রতিটি স্থান।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তোমার স্মৃতিতে রইলো বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। তোমার প্রকৃত অনুসারীরা ভাল নেই। সকলের দোয়ায় ওপারে ভাল থেকো তুমি, করুণাময় সৃষ্টিকর্তা তোমায় জান্নাত নসীব করুন।

মরহুম সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তুমিই আমাদের আদর্শীক অনুভূতি। ধারণ করেছি একমাত্র তোমায়। তুমি ছিলে, আছো, থাকবেই প্রতিটি পদক্ষেপে পথচলায় প্রেরণা হয়ে। কিশোরগঞ্জ তোমায় অনেক অনেক ভালবাসে, তুমিই কিশোরগঞ্জ।

সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়
সাধারণ-সম্পাদক, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা।


আরও পড়ুন